১৮ বছরেও সংস্কার হয়নি আমতলীর টাউন হল

১৮ বছরেও সংস্কার হয়নি আমতলীর টাউন হল

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার আমতলীর টাউন হল ২০০৭ সালের ভয়াবহ সিডরের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অথচ সভা-সমাবেশ করার জন্য আমতলীতে কোনো অডিটোরিয়াম নেই। স্থানীয়রা ও সুশীল সমাজ টাউন হলটি সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন। জানা যায়, ১৯৭৩ সালের মে মাসে তৎকালীন সরকার পর্যাযক্রমে প্রত্যেক থানায় একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদার প্রাথমিক পর্যায়ে আমতলীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনেন। তখন জায়গা নির্ধারণ ও অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন করে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অডিটোরিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়। অডিটোরিয়ামের নামকরণ করা হয় আমতলী টাউন হল। সে অনুযায়ী নিজামউদ্দিন আহমেদের পরামর্শে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভেকেট গাজী আমির হোসেন গাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আতাহার উদ্দিন আকন টাউন হলের ডিজাইন করেন। পরে ১৯৭৫’র ১৫ই আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা নিহত হলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। হলটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় পর ’৭৭ সালের দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ শাহ আলম তালুকদারের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে এখানে একটি ব্যায়ামাগার করা হয়। কিছুদিন এটা চললেও পরে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদ টাউন হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আশান্বিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু উপজেলা পরিষদ টাউন হলে সিনেমা হল করার জন্য বরগুনা শ্যামলী সিনেমা হলের মালিক জুলফিকার শাহিনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার আন্দোলনকারীদের পাত্তা না দিয়ে চালু করেন সুরভি সিনেমা হল। অনেকদিন সিনেমা হলটি চালু থাকলেও ব্যবসাসফল না হওয়ায় দীর্ঘদিন উপজেলা পরিষদের ভাড়া বকেয়া রেখে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে গলাচিপার আব্দুল আলিমের মালিকানায় সেটি আবার লাভলু সিনেমা হল নামে চালু হয়। তবে ২০০৪ সালে তৎকালীন এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদারের নির্দেশে সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর সিডরের তাণ্ডবে ভবনটি টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। সাংবাদিক এডভোকেট সাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের বেশি করে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি দ্রুত হলটি সংস্কার করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য খুলে দেয়ার দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, হলটি যেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অডিটোরিয়াম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেজন্য পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন