বেরোবিতে শিক্ষক সংকট কাটছেই না

ফন্ট সাইজ:

চরম শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। বর্তমানে প্রায় ৪৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গ্রহণযোগ্য অনুপাত ধরা হয় ১:২০। সেই তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি মানদণ্ডের অনেক নিচে অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২২টি বিভাগে মোট অনুমোদিত ২০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া, হত্যা মামলার আসামি তিনজন ও যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার আছেন একজন। ফলে বর্তমানে ১৭২ জন শিক্ষক দিয়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)’র বার্ষিক প্রতিবেদনেও বেরোবিকে শিক্ষক সংকটে থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৪৬। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষককে গড়ে ৮ থেকে ১০টি কোর্স নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার চাপে গবেষণায় পর্যাপ্ত সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গবেষণা কার্যক্রমও ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে দুই সেমিস্টারে ১২ থেকে ১৪টি কোর্স পরিচালিত হয়। চার বছর মেয়াদি স্নাতক কর্মসূচিতে আট সেমিস্টারে ন্যূনতম ৪৮ থেকে ৫৬টি কোর্স নিতে হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অনেক বিভাগে একজন শিক্ষককে ৯ থেকে ১০টি কোর্স নিতে হচ্ছে, কোথাও এর চেয়েও বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমআইএস, লোকপ্রশাসন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ কয়েকটি বিভাগ মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। অধিকাংশ বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা সাত থেকে আটজনের মধ্যে সীমিত। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সংকট নিরসনে ইউজিসি’র কাছে ১৮২টি পদের আবেদন করা হলেও অনুমোদন মিলেছে মাত্র ছয়টি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম। একাডেমিক কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বেও জনবল সংকট রয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামানিক বলেন, নিয়মিতভাবে শিক্ষকের চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও ইউজিসি প্রয়োজন অনুযায়ী পদ অনুমোদন দিচ্ছে না। কিছু বিভাগে অস্থায়ী শিক্ষক থাকলেও তাদের স্থায়ী করা যাচ্ছে না। রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস রহমান জানান, কিছু পদ ইতিমধ্যে অনুমোদন পাওয়া গেছে। তবে আরও পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। উপাচার্য ইউজিসি’র সদস্য হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমরা ইউজিসিতে পদ চেয়েছি। পদ অনুমোদন হলেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন