এখনো জিম্মি ১৬ জন

অপহরণের ২১ দিন পর মুক্তিপণে মুক্তি মিললো ১৪ জেলের

ফন্ট সাইজ:

বনদস্যুদের হাতে ২১ দিন জিম্মি থাকার পর অবশেষে কাক্সিক্ষত চাহিদা ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি মিললো ১৪ জেলের। তবে, এখনো জিম্মি রয়েছে ১৬ জেলে। গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলেরা মুক্তি পেয়ে তাদের কর্মস্থল দুবলার জেলে পল্লীসহ বিভিন্ন চরে ফিরে যায়। তারা হলেন- নারকেলবাড়িয়া শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের জেলে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে এখনো বনদুস্যদের হাতে আলোরকোলের রফিকুল, খালেক মিয়া ও মোংলার করিম মহাজনের ১৬ জেলে দস্যুদের কাছে জিম্মি রয়েছেন বলে মহাজনদের একটি সূত্র জানিয়েছে। চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু জানান, দস্যুরা ৪ মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো ২-৩ মহাজনের ১৬ জেলে জিম্মি রয়েছেন। প্রত্যেক জেলের জন্য দস্যুদের ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর সাউথখালী গ্রামের শামসের পহলান নামের এক জেলে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বুধবার রাতে বাড়ি ফিরে এসেছে। যারা জিম্মি আছে তারা অনেক কষ্টের মধ্যে রয়েছে। শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যেকোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে আবারো হানা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওই চরের জেলেরা। গত কিছুদিন ধরে দস্যু দমনে সুন্দর বনে মোংলা কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীর বাহিনীর এক সদস্যকে অস্ত্র গোলাবারুদসহ আটক করা হয়। তবে শরিফ, করিম ও সুমন বাহিনীর হাতে বন্দি থাকা কোনো জেলেকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি কোস্ট গার্ড। এ কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকার আস্তানায় অবস্থানরত দস্যুরা এখনো জেলেদের হুমকি দিয়ে চলছে। উল্লেখ্য, পূর্ব সুন্দর বনের শরণখোলা রেঞ্জের শুঁটকি পল্লীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্ধর্ষ করিম ও শরিফ বাহিনীর সদস্যরা শুঁটকি পল্লীতে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ১০ জেলেকে এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন