ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত রোগী দেখায় চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত রোগী দেখায় চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. রাজেশ মজুমদার সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখতে যান। এ সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রথমত, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা সেবা প্রদান থেকে তাকে বিরত রাখতে তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

এখন থেকে যদি কোন সরকারি চিকিৎসক সরকারি সময়ে, বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেয় সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেম আমরা একই ধরনের ব্যবস্থা সবার জন্য গ্রহণ করব। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো চিকিৎসক যদি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই ধরনের কাজের নজরদারি করার জন্য কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সব জায়গায় এটা কিছু গোপন ব্যাপারে আছে, কীভাবে উদ্যোগ নিচ্ছি এটা ডিসকাস করবো না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্যোগ নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো। এ ঘটনা থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি কারো ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস বন্ধ করতে পারবো না। আমরা চিন্তা করতেছি কি করা যায়, কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য কীভাবে বন্ধ করা যায়। এজন্য আমাদের সার্ভিসটা বেটার করে কীভাবে রোগী আটকে রাখা যায়, অল্প খরচে সেবা দেয়া যায়।

সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা এখনো কম। এই সংকট কাটাতে সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে এবং আরও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

তপু

৩ মাস আগে

ঐ চিকিৎসকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
ঐ হাসপাতালের পরিচালক বা তত্ত্বাবধায়কের অবহেলার কারণে উক্ত চিকিৎসক নিজ কর্মক্ষেত্র ফেলে বাইরে রোগী দেখার সুযোগ পেয়েছে।

এহতেশাম খান

৩ মাস আগে

অনেক হতাশার ভীড়ে এটা একটা ভালো সংবাদ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধনবাদ। আশা করি সকল অর্থলোভী এই জাতীয় ডাক্তার নামক ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে প্রশাসনের 'জিরো টলারেন্স' অব্যাহত থাকবে।

Shahadat hossain

৩ মাস আগে

প্রত‍্যেক ড়াঃ বিরুদ্ধে এই রকম শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। ওরা টাকা ছাড়া কিছুই বুঝে না একটা মানুষ ও তাদের পরিবারের জন্য কতটাকা প্রয়োজন তাদের মধ্যে মানুষত্ব বলতে কিছুই নাই।

Harun-Al-Rashid

৩ মাস আগে

Suspension of licence for such an unauthorised prolong practice might cause a severe effect when he will be allowed again to see ailing babies. Rather his service may be transferred to a general department like admin or establishment.

মন্তব্য করুন