বাংলাদেশে নতুন সরকারকে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে হবে, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। দেশের ভেতরের এই বিভাজনগুলো কমিয়ে আনতে হবে। জাতীয় ঐক্য অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। অনলাইন জাপান ফরোয়ার্ডের এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব শুরু করেছেন সম্প্রতি। তিনি একটি নতুন সরকার গঠন করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে তার বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা সরকারবিরোধী ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এরপর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। ওই সরকারের প্রধান কাজ ছিল নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া।আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগ। এ নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়, হাসিনার প্রশাসন বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দমনে সহিংস দমননীতি গ্রহণ করেছিল। এর ফলে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের কেন নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। তারেক রহমানকে এখন দেশের ভেতরের এই বিভাজনগুলো কমিয়ে আনা এবং জাতীয় ঐক্য অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে।
প্রতিশোধের চক্র শেষ হতেই হবে
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সামরিক শাসনের একটি সময় পেরিয়ে ১৯৯১ সালে দেশটি গণতন্ত্রে ফিরে আসে। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। আর ক্ষমতাসীন দল কখনো কখনো বিরোধী পক্ষের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছে। ২০০৯ সালে হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবনমন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তার সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কোণঠাসা করে এবং মতপ্রকাশের ওপর সেন্সরশিপ বাড়ায়।
রাজনৈতিক প্রতিশোধের এই চক্র থামতেই হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য নিয়ে একটি সংস্কার পরিকল্পনা তৈরি করে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণের বিষয়ও ছিল। সরকার সংস্কার পরিকল্পনায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কারের এসব বিষয়ে একটি গণভোটও হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তারেক রহমানের প্রশাসনকে ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদারের দিকে নজর
হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর করেছে। এখন বাংলাদেশ ভারত থেকে তাকে ফেরত চাইছে। আরেকটি সতর্ক সংকেত হলো, চীন বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকার একটি চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়েছে বলে জানা গেছে এবং সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চীনা প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অন্য বিকল্প প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশ এমন একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থল মিলিত হয়। তাছাড়া অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণায় জাপানের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ একটি ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা এই দক্ষিণ এশীয় দেশের জন্য প্রথম এ ধরনের চুক্তি।
সস্তা শ্রমকে কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের শরতে দেশটি জাতিসংঘের ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ তালিকা থেকেও উত্তরণের কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন টিকিয়ে রাখতে মুক্ত বাজার এবং গণতন্ত্র এ দুটিই প্রয়োজনীয় ভিত্তি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রশাসনকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্থিতিশীল করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে হবে।

Sahil
৩ মাস আগেজাপানের এই সংবাদপত্রের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। একটু জননীর বক্তা যোগ্য মধ্যে স্থিতিশীলতা এবং সকল দল মিলে চার্টরের বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থানা করতে পারলে সরকার ব্যর্থ হয়ে যাবে।