গ্যাস সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন বাংলাদেশ

সহযোগীদের খবর

গ্যাস সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

​বণিক বার্তা


দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাস সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন বাংলাদেশ’ খবরে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের আগে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন ও এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বড় অংশীদার।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় উৎপাদন থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)। এর মধ্যে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন পরিচালিত গ্যাস ক্ষেত্র থেকে সরবরাহ আসছে ৯৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা স্থানীয়ভাবে গ্যাস উত্তোলনের ৫৬ শতাংশ। আর দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। যার মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিটির হিস্যা ৩৬ শতাংশ।

দেশে মোট ২০টি ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। এসব গ্যাস ফিল্ডের মোট উত্তোলনের ৪৮ শতাংশ আসছে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড একাই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রেখেছে। এ ফিল্ডের মজুদ শেষ পর্যায়ে। ফিল্ডটির উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। গ্রিডে যদি বৃহৎ আকারে বিবিয়ানার গ্যাস সরবরাহ কমে যায়, তাহলে দেশের শিল্প-বিদ্যুৎ খাত তীব্র ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

দেশে মার্কিন কোম্পানি শেভরন ১৯৯৫ সালে পিএসসি চুক্তির আওতায় অনশোর ব্লক ১২-তে কাজ পায়। এরপর ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা ফিল্ডটি আবিষ্কৃত হয়। ২০০৭ সালে এ ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ফিল্ডটি ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনে রয়েছে। বিবিয়ানা ছাড়াও শেভরন জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। এ দুটি ফিল্ডের দৈনিক উৎপাদন যথাক্রমে ১৩১ মিলিয়ন ঘনফুট ও ১০ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশের গ্যাস উত্তোলনেই যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কাজ করছে তা নয়। এর বাইরে আরেক মার্কিন কোম্পানি দেশের এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রমে বড় পরিসরে কাজ করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুটির একটি পরিচালনা করছে এক্সিলারেট এনার্জি। দেশে গ্যাস সরবরাহ সংকটে প্রথম যে এলএনজি টার্মিনাল দেশে নির্মাণ করা হয় তা যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি সই হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। দেশে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতার মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময়ে দেশে এলএনজি সরবরাহে কাজ করছে এক্সিলারেট। তাদের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি গ্যাস সরবরাহ চুক্তি রয়েছে পেট্রোবাংলার।

আমদানীকৃত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দেশে দুটি ভাসমান টার্মিনাল (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ) আছে। এগুলোর একটির মাধ্যমে দেশে এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি এক্সিলারেট এনার্জি স্পট মার্কেট থেকেও পেট্রোবাংলাকে এলএনজি দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কিন কোম্পানি দেশের গ্যাস খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমদানি, জ্বালানি অবকাঠামোতে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’-এর (পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি) আওতায় আগামী ১৫ বছর মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ায় এ নির্ভরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন জ্বালানি ক্রয়ের অথবা বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সেই ক্রয় প্রক্রিয়া সহজতর করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য দীর্ঘমেয়াদি ‘অফট্র্যাক এগ্রিমেন্ট’ বা অগ্রিম ক্রয়চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতে ওয়াশিংটন এখন ঢাকার প্রধান কৌশলগত অংশীদার হয়ে উঠছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ঢাকা সফরে আসা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে সচিবালয়ে গতকাল দুপুরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। পরে জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মেটা পেজে দেয়া পোস্টের বার্তায় বলা হয়, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কাপুর এবং রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সর্বত্র জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সাক্ষাতে আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাতে সারা পৃথিবীতে জ্বালানির একটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদেরও শর্টেজ হয়ে গেছে। যেগুলো কমিটমেন্ট ছিল সেগুলো আসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে আলোচনা করলাম সংকট মুহূর্তে তারা আমাদের কী সহযোগিতা করতে পারে। রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি যিনি এসেছিলেন তাকেও একই কথা বলেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে লংটার্মে যেতে চাই বলেছি। আর এখন ক্রাইসিস পিরিয়ডে আমাদেরকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছি। তারা বলেছে তাদের হেড অফিসে কথা বলে আমাদেরকে জানাবে।’

জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কৌশলী ও বাস্তবসম্মত অবস্থানের কথা বলছেন। তাদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ ছাড়া বিকল্প নেই।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে গ্যাস খাতে কাজ করছে। এখন প্রয়োজন পড়লে যেকোনো উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হবে। সেটা যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর কিংবা অন্য যে কোনো দেশ হোক। যদিও বিকল্প উৎস থেকে সেই অর্থে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। জ্বালানি সংকটের বড় বিপর্যয়ে পড়ার আগেই অল্প করে হলেও লোডশেডিং দিতে হবে।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমানে ‘আপৎকালীন সরবরাহ’ নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার। এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাদের বিশ্লেষণে, জ্বালানি কেবল একটি পণ্য নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত উপাদান’। তাই বড় কোনো শক্তি বা অংশীদারের কাছ থেকে জ্বালানি কেনার মাধ্যমে একটি কৌশলগত নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথমত, এখন আপৎকালীন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে, কতদিন চলবে আমরা তা জানি না। তাই এ মুহূর্তে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখান থেকেই নিতে হবে। দামের ব্যাপারে এখন বিবেচনার সুযোগ কম। সে বিবেচনায় এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের (জ্বালানি) দিতে রাজি হয়, অন্তত এখনকার অনিশ্চয়তা কাটানোর জন্য নেয়া যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কাতারের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি আছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও হতে পারে। তখন আমরা ওদের কাছ থেকে কিনব বলেছি, এখন অন্য জায়গা থেকে যদি সাশ্রয়ী মূল্যে পাই আমরা নেব। আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার আলোকে সিদ্ধান্তটা নিতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা হলো সবকিছুর ড্রাইভার।’

হুমায়ুন কবির আরো বলেন, যেহেতু ইদানীংকালে আমরা আমদানিনির্ভর হয়ে যাচ্ছি, তাই একটা জরুরি বিষয় হচ্ছে কস্ট অ্যান্ড প্রাইস, আরেকটা হচ্ছে গ্যারান্টেড সাপ্লাই। পার্টনার যে-ই হোক এ দুটো জিনিস নিশ্চিত করতে হবে। যখন মার্কেট ঠিক হয়ে যাবে, তখন যদি কাতার আমাকে যে মূল্যে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রও যদি সে মূল্যে দেয় তাহলে তো নিতে অসুবিধা নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন কোনো বড় ঝুঁকি আমি দেখি না।’


যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি সংকট, ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল ও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বিশ্ববাজারে। বাংলাদেশমুখী তেলের ২টি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে আসছে না। এ কারণে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পেট্রোল পাম্পগুলোকে চাহিদার ১০ শতাংশ কম ডিজেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘তেল পাওয়া যাবে না’ আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল বিক্রি ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে, এই মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দুটি কার্গো দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কাতার এনার্জি। এর পরিবর্তে উন্মুক্ত বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে তা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত কোনো বিক্রেতার খোঁজ পায়নি। এ সপ্তাহের মধ্যে ওই দুই কার্গোর বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারলে ১৫ মার্চের পর দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে। শুরু হতে পারে গ্যাসেরও রেশনিং। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা বাংলাদেশে চলে এসেছে। তাই তেল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিপণিবিতানগুলোতে আলোকসজ্জা করবেন না।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের আজ ষষ্ঠ দিন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে বিশেষ করে ডিজেলের মজুত অনেক কম। মাত্র ৯ দিনের। গত ৩-৪ দিন বিভিন্ন পেট্রোলপাম্প এবং ডিলাররা দেদার ডিজেল উত্তোলন করে মজুত বা বিক্রি করেছে। স্বভাবত এই সময়ে দৈনিক ১১ থেকে ১২ হাজার টন বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ১৩ হাজার টনের বেশি। এ কারণে দেশের ২ হাজার ৩০৭টি পাম্পকে তার স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে ১০ শতাংশ তেল কম দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২২ ডলারের বেশি বেড়েছে। ৮০ ডলারের তেল গিয়ে ঠেকেছে ১০৯ ডলারে। এ কারণে এখন প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের লোকসান ৪০ টাকার বেশি। হঠাৎ করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচারের শঙ্কা করছে জ্বালানি বিভাগ। এ কারণে সকালে জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিজেবির মহাপরিচালকের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ৪ মার্চ ডিজেল ছিল মাত্র ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ টন (মজুত ৯ দিন), অকটেন ২৮ হাজার ১৫২ টন (মজুত ১৫ দিনের), পেট্রোল ১৭ হাজার ৩৬৪ টন (মজুত ৮ দিনের) ফার্নেস অয়েল ৬৬ হাজার ১৯২ টন (মজুত ৬০ দিন), জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৪ টন (মজুত ৩৬ দিন) কেরোসিন ৩০ হাজার ৯৫৯ টন (মজুত ১৭০ দিন)।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৬টি তেলের জাহাজ (পার্সেল) আসে বাংলাদেশে। এ মাসে ৭ মার্চ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসবে এমটি লাকি, ৮ মার্চ একই পরিমাণ ডিজেল নিয়ে এমটি রাফেলস সামুরাল, ১৫ মার্চ এমটি সান টেলমো, ১৮ মার্চ এমটি ট্রম দিল্লি আসার শিডিউল রয়েছে। বাকিগুলো এখনো নিশ্চিত করেনি।
জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য নাজুক হয়ে উঠছে। তেল সরবরাহকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে পার্সেলগুলো শুধুই পিছিয়ে দিচ্ছে। এখন ১ বা ২টি পার্সেল ঠিকমতো না এলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
জনগণের প্রতি সরকারের আহ্বান : জ্বালানি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কারণে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে। এই পরিস্থিতিতে মার্কেটে সাজসজ্জা পরিহার, ব্যক্তিগত যানবাহন কম ব্যবহার ও খোলা বাজারে ডিজেল বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশে প্রতিবছর ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের দরকার হয়। এর মধ্যে ৪০ লাখ টনের বেশি হচ্ছে ডিজেল।
এদিকে, মঙ্গলবার রাত ১১টায় তেজগাঁও ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই সময়েও গাড়ির দীর্ঘ লাইন। গাড়িগুলোতে তেল নিতে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। ফিলিং স্টাফ রবিউল জানান, দুদিন ধরে রাত ১টা পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকছে। সবাই আতঙ্কে তেল কিনছে। ওই পাম্পের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আগে দৈনিক ৫০ লাখ টাকার তেল বিক্রি করা হলেও এখন সেখানে ৮০ লাখ টাকার তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এর বেশির ভাগই অকটেন।
এলএনজির সরবরাহ কমতে পারে : সোমবার টার্মিনালে হামলার পর কুয়েত এনার্জি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার কুয়েত জানিয়েছে, ১৫ ও ১৮ তারিখে এলএনজির দুটি কার্গো তারা দিতে পারবে না। এর বিকল্প হিসাবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আনতে মঙ্গল ও বুধবার চেষ্টা করেছে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি)। কিন্তু কোথাও এলএনজি পাওয়া যায়নি। পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। বাংলাদেশে এলএনজি বিক্রি করার অনুরোধ জানাতে বুধবার সচিবালয়ে ডাকা হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে। তিনিও ঢাকাকে এলএনজি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রদূত জ্বালানিমন্ত্রীকে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ায় যে এলএনজি আছে, সেটি তার দেশের ব্যবহারের জন্য। বিদেশে বিক্রির জন্য নয়। সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক বাজারের এলএনজি চীন ও ভারত কিনে নিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের মতো গ্রাহকরা তেমন পাত্তা পাচ্ছে না।
এদিকে, সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বুধবার সকালে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় জ্বালানিমন্ত্রী মার্কিন সহকারী মন্ত্রীকে বাংলাদেশে এলএনজি বিক্রির প্রস্তাব দেন। বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে বাংলাদেশকে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা আছে ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এখন সরবরাহ আছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আবার এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে ১০০ কোটি ঘনফুটের মতো। এখন এলএনজি বন্ধ হলে দেশে বড় সংকট তৈরি হবে।
প্রথম আলো
‘তেল-গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা, এখনই সাশ্রয়ের নির্দেশনা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের হামলায় গত সোমবার বন্ধ হয়ে গেছে সৌদি আরবে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় শোধনাগার। একই দিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করেছে কাতার। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। দেশেও জ্বালানিসংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই তেল–গ্যাস সাশ্রয়ের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। গতকাল বুধবার থেকে সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে আনা হয়েছে। সার ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে কিছুটা লোডশেডিং হতে পারে। আর কোথাও কোথাও রান্নার গ্যাস পেতে ভোগান্তি হতে পারে।
দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানির পুরোটা আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি আসে বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়া দেশের গ্যাস চাহিদার ৩৫ শতাংশ পূরণ করে আমদানি করা এলএনজি, যার সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানিসংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল এ খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি সভা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ধীর হয়ে গেছে। জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে। লোডশেডিং হলেও তা অসহনীয় হবে না। কিছুটা গ্যাস–সংকট হতে পারে। সংকট নিরসনে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। সাশ্রয়ী হলে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে বড়। সবাই সহযোগিতা না করলে বিরাট সংকট থেকে উত্তরণ করা কঠিন। যা আছে, তার সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে হবে। ইফতার থেকে তারাবিহ পর্যন্ত ও সাহ্‌রির সময় লোডশেডিং হবে না বলে সবাইকে নিশ্চিত করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, খোলাবাজার থেকে বাড়তি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংকটের ব্যবস্থাপনা এখন প্রধান কাজ। সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ঈদের ছুটির সময়ে শিল্পকারখানার কার্যক্রম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে, ফলে চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।
কমেছে গ্যাসের সরবরাহ
দেশে এলএনজি থেকে গত মঙ্গলবারও ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গতকাল এটি কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে করে ঈদের ছুটি পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ একই হারে ধরে রাখা যাবে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এ বছর ১১৫টি কার্গো (জাহাজ) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি এবং ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। ওমানও এলএনজি কাতার থেকে নিয়ে সরবরাহ করে। এর বাইরে খোলাবাজার থেকে ৫৯টি কার্গো আনার কথা। এলএনজি বাজারে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম কাতার। দেশটি থেকে এলএনজি আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে, যা এখন বন্ধ। যুদ্ধের মধ্যে কাতার এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
নতুন আসা একটি কার্গো (জাহাজ) থেকে গতকাল এলএনজি নেওয়া হয়েছে টার্মিনালে। ৫, ৯ ও ১১ মার্চ আরও তিনটি কার্গো এসে পৌঁছানোর কথা। এগুলো ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এ মাসে আরও পাঁচটি কার্গো আসার কথা। এর মধ্যে ১৫ ও ১৮ মার্চ দুটি কার্গো আসার কথা কাতার থেকে। যদিও কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাচ্ছে না পেট্রোবাংলা।
অন্য উৎস থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও অ্যাঙ্গোলা থেকে দুটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এলএনজির দাম নাগালের বাইরে চলে যায়। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ৬০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ ৩৬ ডলার পর্যন্ত কিনলেও পরে আর পারেনি। ওই বছরের জুলাই থেকে টানা সাত মাস খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দেশে গ্যাসের সংকট তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি দেখা দেয়। এখন আবার এলএনজির দাম ১০ ডলার থেকে বেড়ে ২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটি আরও বাড়তে পারে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এলএনজির জাহাজ নির্দিষ্ট সূচি মেনে আনা হয়। একটি কার্গো খালাসে এক দিন দেরি হলে ৭৮ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়। এ মাসের দুটি জাহাজ নির্দিষ্ট সময়ে আসবে না। তাই সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে যে সাশ্রয় করা যাবে, তা দিয়ে ঈদের ছুটি পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘যুদ্ধের তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার তেহরানজুড়ে বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে দশম দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইরানও জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
চলমান যুদ্ধে বাড়ছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। দুই পক্ষই একে অন্যের বড় ধরনের ক্ষতি করার দাবি করেছে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো অঞ্চলটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব তেল উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে পাঁচ দিনে কমপক্ষে এক হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাগাতার হামলায় ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ১৭টি জাহাজ এবং প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ছুড়ে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। তিনি জাহাজটির নাম উল্লেখ করেননি।
তবে এর আগে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছিল, গলে উপকূলে ইরানের একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর প্রায় ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। জাহাজটি থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদাইদতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে একই সময় অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
এ ছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেট ও ফুজাইরা বন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরবের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ওমানের উত্তরে হরমুজ প্রণালিতে কনটেইনারবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ কথা জানিয়েছে।
এদিকে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে তুরস্ক জানিয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার সিরিয়া, ইরাক পার হয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাচ্ছিল একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। তবে তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ধ্বংস করে দেয় ন্যাটো আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য কী ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত, রেকর্ড ছুঁতে পারে ভর্তুকি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। হামলার কারণে কাতারের বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ফলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এলএনজির দাম এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও।
কারণ কাতার বাংলাদেশের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। চলতি মাসে দুটি কক কার্গো আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পট মার্কেট থেকে দুটি এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরবরাহকারীদের সাড়া মিলছে না। পরিস্থিতি সামলাতে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে সরকার।
যুদ্ধের কারণে এলএনজির পাশাপাশি ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে গেছে। গত মাসের এই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ক্রুডের দাম এখন প্রায় ৮৪ ডলার। যুদ্ধ শিগগিরই শেষ না হলে এই দাম শতকের ঘর পেরোতে পারে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেল প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে চলতি অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি রেকর্ড করতে পারে বলে শঙ্কা খাতসংশ্লিষ্টদের।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমেছে ৮৬ শতাংশ। উভয় প্রান্তে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকে আছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে এশিয়ার বাজারে- বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের তেলবাহী দুটি জাহাজ সৌদি আরবে বন্দরে আটকে গেছে।
ইত্তেফাক
‘উপসাগরীয় অস্থিরতায় ঝুঁকিতে শ্রমবাজার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পালটা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত ও বাহরাইনে আরো কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্দান মিলিয়ে বাংলাদেশের বৃহত্ অংশের অভিবাসী শ্রমিক একই ভৌগোলিক অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে জিসিসিভুক্ত দেশগুলো থেকে। রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও গ্রামীণ অর্থনীতির বড় ভিত্তি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহেও ভাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনে বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা গেছে, একাধিক নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কাতার পরিস্থিতি বিবেচনায় এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘সবদিকেই আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। এই সরকার জনগণের সরকার। তাই বাংলাদেশের নাগরিকরাই সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান—‘সৌদি আরব, ইউএই, কাতারসহ যুদ্ধ-প্রভাবিত অঞ্চলে থাকা আমাদের নাগরিকদের এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) প্রস্তুতিও রয়েছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা পাওয়া যায়।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদি সংঘাত হলে বড় ধরনের প্রভাব না-ও পড়তে পারে; বরং পুনর্গঠন কার্যক্রমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি হলে শ্রমবাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরতে চাইবেন, নতুন কর্মী নিয়োগও কমে যাবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীদের অশ্চিয়তাও বাড়বে। আবার বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জ্বালানিতে প্রভাব পড়বে। এলএনজি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা বাড়বে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের দুজন প্রবাসী মারা গিয়েছে। প্রথম তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করা। যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে এর স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতির ওপর। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। গত দুই মাসে অনেকের ভিসা সম্পন্ন হলেও এখন যেতে পারছেন না। কুয়েত যেমন যুদ্ধের কারণে এক মাস ভিসার সময় বাড়িয়েছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলে এটি করা যেতে পারে।’
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ডেপুটি স্পিকার ঘিরে টানাপড়েন: জুলাই সনদে অচলাবস্থা’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ডেপুটি স্পিকার পদকে ঘিরে। সরকারপক্ষের প্রস্তাব-প্রধান বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেয়া হবে। তবে বিরোধী শিবির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া তারা আপাতত এই পদ গ্রহণ করবে না। ফলে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনকে ঘিরে যে ঐকমত্যের বার্তা সরকার দিতে চেয়েছিল, তা এখন শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক সমীকরণে আটকে যাচ্ছে। শুধু ডেপুটি স্পিকার নয়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়টি নিয়েই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫; গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সূত্র জানায়, আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পরপরই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার চাইছে বিরোধী দল যাকে মনোনীত করবে, তাকেই সমর্থন দিতে। কিন্তু বিরোধী দল বলছে, এটি কেবল একটি পদ নয়; গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদকে ‘প্যাকেজ’ আকারে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আগে নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা কাউকে মনোনয়ন দেবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে চায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলের পর চা-চক্রে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই মনোভাব জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য ‘ডেপুটি স্পিকার পদটি কারো দয়ার বিষয় নয়। ৬০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় পাশ কাটিয়ে কেবল একটি পদ প্রস্তাব করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।’
জুলাই সনদ অনুযায়ী দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থায় উভয় কক্ষের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার কথা রয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি সরকারি দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল কোনো প্রস্তাব নয়; বরং গণভোটে অনুমোদিত রাজনৈতিক সমঝোতার বাধ্যবাধকতা। সরকারপক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে নির্বাচন দিতে চায় সরকার। প্রধান বিরোধী দলকে নাম ঠিক করতে মৌখিক ও সাক্ষাতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এখন থেকেই শুরু করতে চাই।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘হামলা জোরদার দুই পক্ষেরই’। খবরে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, তা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুপক্ষের কথা থেকে এর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসরায়েল ও আশপাশের দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ইরান গতকাল বুধবার বলেছে, সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র এখনো তারা ব্যবহার করেনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, তারা ইরানের আরও ভেতরে হামলা করবে। আরও সেনা পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পঞ্চম দিন ছিল গতকাল। এর আগের রাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সে দেশ লক্ষ্য করে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটিকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে দ্বিতীয়টি রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির ওপর পড়ে।
গতকাল ইরান হামলা করেছে সৌদি আরবেও। সেখানে সিআইএর একটি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে তারা। এ ছাড়া আরও কিছু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ অংশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ন্যাটোর একমাত্র মুসলিমপ্রধান সদস্যদেশ তুরস্ক লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ন্যাটো প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোটটি।
হামলা হয়েছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১০টি ড্রোন এবং ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া আটটি ড্রোন দেশের ভেতরে আঘাত হেনেছে।
আল জাজিরা আরবির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের লজিস্টিক সাপোর্ট ক্যাম্প লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
গতকাল ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে হামলার হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ১৭তম হামলায় ৪০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আল আজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের এবং তারা এখনো তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, ‘এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ার ও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই আমরা আমাদের সমস্ত উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করি না।’
এদিকে ইরানের ফারস নিউজের খবরে বলা হয়, ইরানি বাহিনী বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়েছে।
দেশ রূপান্তর

‘মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুদ্ধ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ার অন্য অঞ্চলেও ছড়াতে শুরু করেছে। সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে একের পর এক দেশ। সেই সঙ্গে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। টর্পেডো দিয়ে যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে একটি ইরানি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার গতকাল জানায়, ওই ঘটনায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছে। ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তুরস্ক জানিয়েছে, গতকাল ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় ঢোকার পথে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করেছে। চলমান সংঘাতে এই প্রথম ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়ল।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সব পক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা এই অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেয়। তুরস্ক জানায়, নিজের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ দৃঢ় ও দ্বিধাহীনচিত্তে দেশটি নেবে। তুরস্কের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব দেওয়ার অধিকার দেশটি সংরক্ষণ করে। এ বিষয়ে ন্যাটো ও অন্য মিত্রদের সঙ্গে শলাপরামর্শ চালিয়ে যাবে তারা।
এর আগে কমপক্ষে ১৫টি দেশে এ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকায় বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার পথে ধাবিত হচ্ছে, এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গতকাল চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে গেছে ইরান ও তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।
তবে এ যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে স্পেন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলায় সহায়তা না করলে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ অস্বাভাবিক হুমকির মুখেও নতিস্বীকার না করে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান এ সংঘাতকে কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে রুশ রুলেট খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘মাথার ওপর মিসাইল, কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা’। খবরে বলা হয়, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহর আক্রান্ত হয়েছে। খবর পাওয়া গেছে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুরও। হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেমন আতঙ্কে রয়েছেন, সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে কাজ হারানোর দুশ্চিন্তা। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে থাকা কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি গতকাল টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এমন দুশ্চিন্তার কথা জানান।
এদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা এখন কাজ করতে পারছেন না। কেউ জানিয়েছেন মাঝে মাঝে কাজে গেলেও হামলা হলে ফেরত আসতে হচ্ছে। ফলে টাকা পাবেন কি না তা অনিশ্চিত। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যারা স্থায়ী চাকরি করেন, তাদের খুব একটা সমস্যা না থাকলেও যারা ফ্রি ভিসা বা অবৈধভাবে থেকে কাজ করেন, তারা বেশি সমস্যায় পড়বেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে হয়তো দেশেও ফিরতে হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক দিনেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান, ইরাক এবং সাইপ্রাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কুয়েতের আল জাহারা এলাকার বাসিন্দা ঢাকার মোহাম্মদ আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমেরিকান ঘাঁটি লক্ষ্য করে কুয়েতে দফায় দফায় মিসাইল হামলা হচ্ছে। অনেক মিসাইল আকাশে ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে বিকট শব্দ হয়, সবাই খুব আতঙ্কিত। তিনি বলেন, আকাশে ধ্বংস করা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়তেছে। কখন কার ওপরে পড়ে, তা তো বলা যায় না। তিনি বলেন, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ জরুরি অবস্থায় আমাদের মতো শ্রমিকরা বেশি সমস্যায় পড়েছে। যারা পারমান্যান্ট চাকরি করেন, তাদের কোনো সমস্যা নেই। কাজ না করতে পারলেও বেতন পাবেন। তবে যারা ফ্রি ভিসায় আছেন বা অবৈধভাবে আছেন, তারা বেশি সমস্যায়। যুদ্ধের কারণে খুব একটা কাজও নেই। কেউ ফাঁকফোকর গলিয়ে কিছু কাজ করতেছেন, তবে অধিকাংশই বেকার। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমরা খুবই সমস্যায় পড়ব। কাতারের রাজধানী দোহায় থাকা ঢাকার মোহাম্মদ জসিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি ফ্রি ভিসায় এখানে আছি। এমনিতেই কাজ কম থাকে। কাতারে যখন থেকে হামলা শুরু হয়েছে তখন থেকে কাজ একেবারে নেই বললেই চলে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একদিন কাজ করতে পেরেছি। অনেক প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে আছে। তিনি বলেন, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যেতে দেখি, মনে হয় আমাদের ওপরেই পড়বে হয়তো। এর সঙ্গে কাজও করতে পারতেছি না। এ পরিস্থিতি যদি বেশি দিন চলতে থাকে, তাহলে আমাদের খুবই সমস্যা হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাস চলছে, সামনে ঈদ। এখন কোনো কাজ করতে পারতেছি না। ঈদ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকলে হয়তো দেশে থাকা পরিবারকে ঈদ করার জন্য টাকাও পাঠাতে পারব না।
যারা ফ্রি ভিসায় আছেন, তাদেরই বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানান এই প্রবাসী বাংলাদেশি। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হামরা এলাকায় বসবাস করা মুন্সিগঞ্জের রাজু জমাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার কোনো স্থায়ী চাকরি নেই। ফ্রি ভিসা নিয়ে এসেছি সৌদি আরব। রিয়াদের আরামকো অয়েল রিফাইনারিতে হামলার পর থেকেই কাজ বন্ধ।
তিনি বলেন, আমি যেখানে কাজ করতাম, সেটা আরামকো অয়েল রিফাইনারির কাছে। এজন্য অফিস বন্ধ রেখেছে। কাজ করতে না পারলে কোম্পানি টাকা দেবে কি না, সেটাও জানি না। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও ভিসাসংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন