চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিনদিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটি মারা যান। তার চাচা মো. রমিজ উদ্দীন জানান চমেক হাসপাতালে শিশু ইরার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেয়া হয়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহিন পাহাড়ে ঘটে যাওয়া সেই লোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ‘বাবু শেখ’-এর নৃশংস পরিকল্পনার ছক। ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে পাহাড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতককে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া থেকে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখ (৪৫)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও সে শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতো।
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মনির হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্তের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে টার্গেট করা হয়। রোববার সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে প্রাথমিক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে অভিযুক্ত। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে ।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, ঘটনার দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের দিকে মাহবুব শিশু ইরা মনির হাত ধরে ইকো পার্কের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা এই মামলার তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় হিসেবে কাজ করেছে। গত ১লা মার্চ রোববার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাকে প্রথমে দেখতে পান এবং দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওই রাতেই শিশুটির গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পুনরায় নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ওয়ার্ডে স্থানান্তরের পর মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১লা মার্চ রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Bonggoj Bihinggo
৩ মাস আগেধর্ষক-ঘাতকের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করলে যেসব আলেমদের ওয়াজ শোনার প্রমাণ পাওয়া যাবে সেইসব আলেমদেরও একই অপরাধে গ্রেফতার করে বিচার করা হোক।
দেশে মাদ্রাসা, মসজিদ, ওয়াজ মাহফিল, মুসুল্লি মূর্খতাপূর্ণ সন্ত্রাসবাদী ইসলামী চেতনা বৃদ্ধির কারণেই সুশিক্ষার অভাবে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, ঘুষ-দুর্নীতি, খাদ্য-পানীয়-ঔষধে ভেজাল, সন্ত্রাদ, খুন বেড়েছে।
শেখ হাসিনা
৩ মাস আগেতোদের মা চলে যাওয়াতে তোদের এতিম করে অনেক কষ্ট হচ্ছে না?
NAAZ ISLAM
৩ মাস আগেpost দাতা নিশ্চয়ই গোমূত্রখোর !