পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রকাশে হাইকোর্টের নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্র্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ২০২২ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেয়া হলো।
আদালত রায়ে বলেছে, তথ্য অধিকার আইনে জনগণের তথ্য জানার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। দূষণকারীরা দেশের ক্ষতি করছে। তাদের তথ্য গণমাধ্যমে এলে অন্য দূষণকারীরাও সতর্ক হতে পারে। তাই তথ্য গোপনের ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও বেআইনি। পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নেয়া সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর তা গণমাধ্যম এবং অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিন রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ২০২২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তাদের নাম মিডিয়ায় প্রকাশ করা হবে না। পত্রিকায় এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৩ই জুন অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানাতে রুল জারি করেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার রায় দেয়া হয়। রায়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করাকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর বিবাদীদেরকে যেকোনো দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন