সিলেটে মুখিয়ে আছেন তারা

সিলেটে মুখিয়ে আছেন তারা

ফন্ট সাইজ:

সুরমার জল অনেক গড়িয়েছে। সময়ও বয়ে চলছে। দৃশ্যপটেও পরিবর্তন। তবুও ওদের ভাগ্য বদলায়নি। কখনো কখনো পরিবর্তনের ক্ষীণ আলো দেখা দিলেও পরক্ষণেই মিশে যায় অতল গহ্বরে। দোষ আছে নিজেদেরও। আবার পরিস্থিতির শিকার হয়েও হয়েছেন কোণঠাসা। এতে করে আফসোসও রয়েছে। সিলেট নগরের বিএনপি’র চার নেতার হিসাবের খাতা এখনো শূন্যই রয়ে গেল। তবে এবার তাদের জন্য শেষ চান্স। সামনেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। সবারই আশা আছে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার। এজন্য তারা এরই মধ্যে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। কেউ দিচ্ছেন সরবে, কেউ নীরবে। নাসিম হোসাইন সিলেট নগর বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি। কিন্তু তিনি নামেই কেবল সভাপতি। কাজে না। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রয়েছেন আরেকজন। তিনি সভাপতি হিসেবে দল পরিচালনা করছেন। এটি এখন থেকে না, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে থেকে। দল তখন কঠিন সময়ে। অসুস্থ নাসিম হোসাইনও। বাইপাস সার্জারি করার পর থেকে শরীরে সায় পাচ্ছেন না। তখন সিলেট নগরে আন্দোলন চাঙ্গা করতে নাসিম হোসাইনকে রেখেই অন্য আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ দেয়া হয়। প্রথমে সেই দায়িত্বে ছিলেন মিফতাহ। এখন কয়েস লোদী। নাসিম হোসাইন অকার্যকরই থেকে গেলেন। তবে সিলেট বিএনপি’র রাজনীতির ইতিহাসে নাসিম হোসাইনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বার বারই সুযোগ হাতছাড়া করেন নাসিম হোসাইন। ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি সফল। ২০১৪ সালের সিটি নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের জন্য তুমুল লড়াই গড়েছিলেন। সেই ছিটকে যাওয়াই যেন নাসিমের জন্য শেষ ছিটকে যাওয়া। আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। এবারের সিটি নির্বাচনে আলোচনায় আছেন তিনি।

বিগত সংসদ নির্বাচনে অবশ্য বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে খেটেছেন তিনি। আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকি। সাবেক প্যানেল মেয়র ও একাধিকবারের কাউন্সিলর। কামরান আমলের জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ। মেডিকেল এলাকার ‘সমাজপতি’ হিসেবে তাকে ধরা হয়। নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির শেষ দিকেও অবস্থান পংকির। এক নামেই নগরের মানুষ তাকে চিনেন। বিগত দেড় দশক ধরে সিটি’র মসনদে চোখ। কিন্তু দিনে দিনে যেন খেই হারিয়েছেন তিনি। আন্দোলনকালীন সময়ে রাজনীতির মাঠে ড্রয়িং রুম নির্ভর রাজনীতি করেছেন। মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হতে পারেননি। পুলিশের চোখ রাঙানির মুখেও সুস্থির ছিলেন। সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে নগরের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এবারো তার চোখ সিটি’র মসনদে। আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বিএনপি’র যে ক’জন সিনিয়র নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে পংকি অন্যতম। বদরুজ্জামান সেলিম। সিলেট বিএনপি’র রাজনীতির পরিচিত মুখ। সাপ্লাই কেন্দ্রিক বিএনপি’র গ্রুপের প্রধান নেতাও ছিলেন তিনি। নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম রাজনীতিতে একজন সফল ব্যক্তি। গ্রুপভিত্তিক রাজনীতিতে তার অংশ সিলেটে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে কোথায় যেন তার ঘাটতি রয়েছে। হয়ে হয়েও হয় না।

হিসেবের খাতা শূন্য থাকে। শেষ বারে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী হয়ে থাকতে চান। কাছের জন ছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমান লন্ডনে। না পাওয়ার যন্ত্রণা শুরু হয় তার দলের নগর সাধারণ সম্পাদক থাকা কাল থেকেই। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও দীর্ঘদিন লন্ডনেই কাটান। তার অনুপস্থিতিতে নতুন করে সাজানো হয় সিলেট নগর বিএনপি। সেখান থেকে ছিটকে যান সেলিমও। এবার সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে প্রার্থী হতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। শেষ দিকে অবশ্য তিনি নীরব হয়ে গেছেন। এবারের সিটি নির্বাচনকে ঘিরে তিনি ফের মাঠে সক্রিয় হওয়ার আভাস দিচ্ছেন। মাঠেও আছেন। এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।

সিলেট বিএনপি’র মাঠের আন্দোলনের এক তুখোড় নেতা। নিবেদিতপ্রাণ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। সিলেট বিএনপি’র বড় একটি অংশকে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। বার বারই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হতে দলের কাছে সমর্থন চেয়েছেন। পাননি। একবার স্বতন্ত্র হিসেবে করেছেন নির্বাচনও। সিলেটের ভাগ্য বিড়ম্বিত এক রাজনীতিক। কৌশলে তাকে ‘সাইড লাইনে’ রাখা হয়েছে। রাজনীতির কূটচালে পড়ে ২০২১ সালে তিনি নিজ থেকে দল থেকে সরে যান। তার আগে ৩৭ মামলায় হুলিয়া নিয়ে ‘শুট আউটের’ মুখে ছিলেন। সেখান থেকে উঠতে এবার সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। নির্বাচন জমিয়েও তুলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এবারের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে ঘোষণাও দিয়েছেন নির্বাচন করার। দল তাকে মূল্যায়ন করবে- সে আশায় বুক বেঁধে আছেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন