বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাটের সমাপ্তি ঘটলেও দেশের ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও ঘরোয়া লীগের প্রয়োজনীয়তা। জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উত্তরাঞ্চলের হয়ে ফাইনালে হারলেও মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাকে বেশি সোচ্চার দেখা গেছে। শান্তর মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সামনে যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং পাকিস্তান সিরিজের মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তখন ঘরোয়া পর্যায়ে মানসম্মত ওয়ানডে টুর্নামেন্টের কোনো বিকল্প নেই। শান্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক সূচিতে এখন ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা তুলনামূলক কম, তাই ঘরোয়া লীগগুলোই প্রস্তুতির প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলবো যে আমরা খেলতে চাই। সামনে আমাদের ওয়ানডে ওয়ার্ল্ড কাপ আছে। পাশাপাশি আমরা ওয়ানডে ম্যাচও খুব কম খেলি এখন। সো এই প্রিমিয়ার লীগের একটা সময় কিন্তু ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়। সো খুব ইম্পর্টেন্ট একটা টুর্নামেন্ট।’ শান্তর এই জোরালো আহ্বান মূলত নীতিনির্ধারকদের প্রতি একটি সময়োপযোগী বার্তা, যেখানে তিনি প্রিমিয়ার লিগসহ অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন, যাতে ক্রিকেটাররা দীর্ঘ ফরম্যাটের এই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখতে পারেন। বিসিএল-এর এবারের আসরটি দেশের উত্তরাঞ্চলের দুই ভেন্যু- রাজশাহী ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভেন্যুগুলোর উইকেট এবং সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে শান্ত বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার অভ্যাস করা জরুরি। শান্ত বলেন, ‘রাজশাহী এবং বগুড়া স্পেশালি এই দুইটা ভেন্যুতে খুব ভালো ক্রিকেট হয়েছে কারণ স্পোর্টিং উইকেট ছিল। যেটা নরমালি ওয়ানডে ক্রিকেটে সব জায়গায় থাকে। সো এটা একটা পজিটিভ দিক ছিল।’ তিনি মনে করেন, ব্যাটার এবং বোলারদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের উইকেট সহায়ক। ফাইনালে মিরপুরের উইকেটের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেটিকেও তিনি স্পোর্টিং হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, হার-জিত বড় কথা নয়, বরং প্রপার কন্ডিশনে খেলতে পারাটাই বড় অর্জন। দলের পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত আক্ষেপ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে খোলামেলা কথা বলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ফাইনালে হারের পেছনে টস এবং কুয়াশা (ডিউ) ফ্যাক্টরকে বড় করে দেখলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যাননি তিনি। শান্ত বলেন, ‘আজকের টসটা খুব নির্ণায়ক ছিল। কারণ প্রচুর শিশির ছিল, যা বোলারদের কাজ কঠিন করে দিয়েছিল। বাট আমার মনে হয় অ্যাজ এ ব্যাটিং ইউনিট আমরা প্রথমে ভালো ব্যাটিং করিনি। সেট হয়ে আমি বা অমি বা সাব্বির রহমান আউট হয়েছি।’ বিশেষ করে মেহরাব হোসেন অমির মতো উদীয়মান অলরাউন্ডারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ওকে যদি প্রপারলি তৈরি করা যায়, তবে সে বাংলাদেশ দলের জন্য বড় অ্যাসেট হবে।’ তবে সামগ্রিকভাবে টুর্নামেন্টে নিজের ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন তিনি, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে তাকে আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় দলের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে শান্তর কণ্ঠে ঝরলো কিছুটা দুশ্চিন্তা। গত এক-দেড় বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধিক্যের কারণে ব্যাটাররা ওয়ানডে মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শান্তর পর্যবেক্ষণ হলো, ‘গত এক-দেড় বছর অনেক বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের মাথায় সবসময় স্ট্রাইক রেট কাজ করছে। কিন্তু মিডল ওভারে স্ট্রাইক রোটেশন করে খেলাটা লম্বা নিয়ে যাওয়া আমরা মিস করছি।’ তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশ দল ৫০ ওভার ডমিনেট করে খেলতে পারছে না, যা একটি ডিসঅ্যাপয়েন্টিং ব্যাপার। সাকিবের অনুপস্থিতি বা দলের কম্বিনেশন যাই হোক না কেন, শান্তর মূল লক্ষ্য হলো ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে উন্নতি করা। আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের আগে এই বিসিএল টুর্নামেন্ট ক্রিকেটারদের মানসিক ও কারিগরি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটের গুরুত্বে শান্ত
স্পোর্টস রিপোর্টার
৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
