নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের কালাভরপুর গ্রামে মসজিদ নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে গ্রামছাড়া প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, লোপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের নজির তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতার প্রত্যক্ষ মদতে এসব শুরু হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। শান্তি-শৃঙ্খলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের একাধিক প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হয়েছে। গতকাল দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। সরজমিন ভাঙচুর ও তাণ্ডবের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে হতবাক তিনি। হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার ও থানার ওসিকে আগাম জানিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তবে সেখানে গিয়ে একজন এসআইকে দেখতে পান। স্থানীয় বিএনপি নেতা হায়দর আলী ও স্থানীয় লোকজন সংসদ সদস্যকে সার্বিক ঘটনার বর্ণনা দেন। ৭-৮টি পাকা বাড়িঘর ভাঙচুরের তাণ্ডব দেখে হতবাক হন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা ছালামত খান ও যুবলীগ নেতা জাকির খানের নেতৃত্বে ঘোষণা দিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালালেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। এ সময় পুলিশের এসআই কৌশিককে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে জিজ্ঞেস করেন সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। পুলিশের এসআই কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের কালাভরপুর গ্রামে মসজিদ নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে নেতৃত্ব নিয়ে বিভক্ত খান গোষ্ঠীর নেপথ্যে ওই গ্রামের চৌধুরী গোষ্ঠী ইন্ধন দিয়ে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দাবি, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার আর্থিক সহায়তায় এসব তাণ্ডব চলছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও জামায়াত নেতারা একাধিকবার চেষ্টা চালালেও সালামত খানের গ্রুপ বিরোধ নিরসনে সুযোগ দিচ্ছে না। এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে প্রবাসী লীগ ও যুবলীগ নেতা। সালিশ প্রক্রিয়ায় যুক্তদের অভিযোগ পুলিশের জনৈক এক কর্তা ব্যক্তির কারণেই বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে না। প্রতিপক্ষের ফসলি জমির পাকা ধান, বৃক্ষসহ বাড়িঘর লোপাট, অগ্নিসংযোগ শেষে এবার শুরু হয়েছে ভাঙচুর। পুরুষশূন্য বাড়িতে প্রবেশ করে সালামত বাহিনী একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে ৭ জন মহিলাকে রক্তাক্ত জখম করে। এ নিয়ে মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা আদালতে হাজির হলে বিচারক সালামত খানসহ আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন। কয়েক মাস পূর্বে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করেন। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বিগত কয়েক মাস ধরে হামলা, গুপ্ত হামলায় পরস্পর বিরোধী হাফডজন মামলা হলেও কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। ৯৯৯ এর সুবাধে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গেলেও দায়সারা ভূমিকায় থাকে পুলিশ। বিদ্যমান দুই গ্রুপের সঙ্গে সখ্য গড়ে বাণিজ্যে মেতে ওঠার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
নবীগঞ্জের কালাভরপুর গ্রামের তাণ্ডব সরজমিন দেখলেন ড. রেজা কিবরিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, নবীগঞ্জ থেকে
৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

D Akter
৩ মাস আগেসবাই জানে গডফাদার নাম বাবুল চৌধুরি
যুবলীগ নেতা