রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সরকারি সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না। আটক হওয়া সারের বিষয়ে কিছুই জানেন না গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলাররা। রহস্য উদ্ঘাটনে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ করছে পুলিশ। সেইসঙ্গে ট্রাকভর্তি সারসহ আটক হওয়া চালককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৯শে জানুয়ারি রাত ৯টায় পরশুরাম থানার সামনে পুলিশ সন্দেহভাজন একটি ট্রাক আটক করে চালক মানিক মিয়ার (৪৮) কাছে সার সরবরাহের কাগজপত্র দেখতে চায়। এ সময় চালক কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ট্রাকটি তল্লাশি করে পুলিশ ১৩৪ বস্তা টিএসপি সার, ৫০ বস্তা ডিএপি সার ও ৩০ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ২১৪ বস্তা সার উদ্ধার করে। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সেইসঙ্গে ট্রাকচালক নগরীর তাজহাট কেডিসি রোড সুলতান নগরের খবির উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এদিকে জানা যায়, নগরীর বিএডিসি কালীবাড়ী সার গুদাম থেকে ১৯শে জানুয়ারি গঙ্গাচড়ার ডিলার রাকিবুল ইসলামের কাছে ৭৩৮ বস্তা সার পাঠানো হয়। ওই সার রাকিবুল ইসলাম বুঝে পেয়েছেন বলে জানান- গুদামের ইনচার্জ ও বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, সার বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের সার বরাদ্দ করা হয়। গত ১৯শে জানুয়ারি পুলিশ আমাকে ফোন দিয়ে আটক সারের বিষয় জানতে চায়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আটক সারটি ডিলার রাকিবুল ইসলামের হতে পারে। তখন পুলিশকে তার নাম বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি রাকিবুলকে ফোন করে জানতে পারি তিনি তার বরাদ্দকৃত সার পেয়েছেন। যা পরে আমি পুলিশকে জানিয়েছি। আমার গুদাম থেকে কালোবাজারে সার যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন কোনো ডিলার যদি তার বরাদ্দের সার বাজারে বিক্রি করে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই।
অপরদিকে, লালবাগ সার গুদামের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, ১৯শে জানুয়ারি বিকালে পীরগাছার ডিলার মমদেল হোসেনের কাছে বরাদ্দকৃত ৮৮৬ বস্তা সার পাঠানো হয়েছে। সেই সার পুলিশের হাতে আটক হওয়া মানিক মিয়া পরিবহন করেছেন। তবে মমদেল জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত সার তিনি পুরোটা বুঝে পেয়েছেন। গুদাম ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ১৯শে জানুয়ারি ডিলার মমদেল আমাকে ফোন করে ট্রাক চালক মানিক মিয়াকে সার বুঝে দিতে বললে আমি কাগজপত্রসহ তাকে সার বুঝিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে ডিলার মমদেল সার বুঝে পেয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। মানিক মিয়া যে সারসহ আটক হয়েছে সেটি আমি জানি না। ওদিকে উভয় ডিলারই তাদের বরাদ্দকৃত সার বুঝে পেলে আটক হওয়া সার কার এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরশুরাম থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি সার কোন গুদাম থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছিলো, কালোবাজারীর সঙ্গে কারা জড়িত তা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা চাই সকল অপরাধীই যেন শাস্তির আওতায় আসে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সার আটকের ঘটনাটি শুনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রংপুরে আটক হওয়া সরকারি সার নিয়ে রহস্য, খুলছে না জট
জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে
৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
