সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বহু প্রতীক্ষিত যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন দু’টি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতু দু’টি আট বছরেও শেষ না হওয়ায় ভাটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু’ এবং পাটলাই নদীর ওপর ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের অপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প দু’টির কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৩০ মাস। সে অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বাজেট জটিলতা, সরকার পরিবর্তন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি সহ নানা কারণে কাজ শেষ হয়নি। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন যাদুকাটা মৈত্রী সেতুর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ৬৭ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ। একইভাবে ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৯ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পাটলাই সেতুর বিপরীতে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৯ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ দুই সেতুর কাজ এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, যাদুকাটা সেতুর দুই পাশের অংশের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অন্যদিকে, পাটলাই সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না হওয়ায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বালিয়াঘাট নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, পাটলাই সেতুর মূল কাজ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ সড়কে মাটি না থাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। সামান্য উদ্যোগ নিলেই সেতুটি দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারতো। বাদাঘাট বাজারের সারোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতু দু’টির কাজ শেষ হচ্ছে না। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই ভাটি অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তাদের ১০ শতাংশ হারে ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসমাপ্ত কাজের নতুন প্রাক্কলন তৈরি করে প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, পাটলাই সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করে দেয়ার জন্য। সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবাগত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মানবজমিনকে জানান, এ বিষয়ে এলজিআরডি ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় সেতু দু’টির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শুরু হবে।
যাদুকাটা-পাটলাই সেতু
তাহিরপুরে ৮ বছরেও শেষ হয়নি ১২৯ কোটি টাকার প্রকল্প
এম.এ রাজ্জাক ও এম.এ হালিম, সুনামগঞ্জ থেকে
৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
