এনসিপি নেতা সালাহউদ্দিনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লক প্রত্যাহার

ফন্ট সাইজ:

আদালতের নির্দেশে অবশেষে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ব্লক থেকে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। গত ১লা মার্চ ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৭শে মে দুর্নীতি দমন কমিশনের বা দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের পাসপোর্ট নম্বরে বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তার জাতীয় পরিচয়পত্রটিও ব্লক করে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রেরিত একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদালতের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকেও এই আবেদনের বিষয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। উভয়পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন যে, যেহেতু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুসন্ধান চলমান নেই, সেহেতু তার ওপর আরোপিত বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক রাখার আর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। ফলে আদালত পূর্বের সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা রিকল করার চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, তিনি শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং দুদকের অনুসন্ধানে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল এবং দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগের কারণে এতদিন তার স্বাভাবিক চলাফেরা এবং এনআইডি সংক্রান্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে এবং তিনি তার হারানো সম্মান ফিরে পেয়েছেন। এখন থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করে যেতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ওদিকে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে উল্লেখ করেন-এনসিপিকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি নিয়ে ট্রায়ালে ফালানো হয়েছে সালাউদ্দিনকে নিয়ে। এখন করা হচ্ছে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে। সামনে আরও করবে। এক অনলাইন পোর্টালের বরাতে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতির এক অভ্রচটি লিখে নিউজ করেছিল। পুরো দেশ নড়ে উঠলো। এনসিপিকে দেশের মধ্যে এক মহাদুর্নীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে উল্লেখ করা হলো। ফলে সালাউদ্দিনকে বহিষ্কারও করেছিল এনসিপি। অথচ সেই সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১ টাকার দুর্নীতিও পাইনি দুদক। ইন্টেরিমের দুদক না। বিএনপি শাসনামলের দুদক তাকে দায়মুক্ত করেছে। তার পাসপোর্ট সসম্মানে ফেরত দিয়েছে। শুধু শুধু একটা তাকে পুরো বছর জুড়ে হেয় করা হলো। একটা দলকে একটা বছর ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত বানানোর নোংরা খেলা হলো। কিন্তু তদন্তে জানা গেলো সবমিথ্যা। মাঝখানে প্রতিটা দিন দল এবং এই লোকটা সমাজে হেয় হলো। পলিটিক্যালি লোকটার ক্যারিয়ার অনেকটা ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হলো। অথচ তিনি কোনো অপরাধই করেননি। দলের উচিত এই বিষয়টাকে ক্যাচ করা। তাদের ওপর হওয়া এই জুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন