গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যার রহস্য উন্মোচন, ভাইসহ গ্রেপ্তার ২

ফন্ট সাইজ:

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র কিশোর আঃ রাহিমকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে ভিকটিমের বড় ভাইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-ভিকটিমের বড় ভাই আলামিন হোসেন (২৩) ও আশিক আহমেদ (২০)। তাদের গত ৩ মার্চ ভোরে জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান-জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন। তিনি জানান, জেলার জয়দেবপুর থানার ডগরি নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আঃ রাহিম (১৩) স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১লা ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার পিতা গত ৩রা ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২৬শে ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ী পদ্মপাড়া এলাকায় বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে সরকারি শালবনের গভীরে গর্তের ভেতর মাটি চাপা দেয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হলে পোশাক দেখে রাহিমের পিতা তার ছেলেকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৭শে ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তে জানা যায়, রাহিম তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। এ বিষয় নিয়ে বড় ভাই আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু আশিক আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করে। গত ১লা ফেব্রুয়ারি বিকালে তারা রাহিমকে শালবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগানো হয়। একপর্যায়ে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দিবে বললে আলামিন তাকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে মাটিচাপা দেয়া হয় এবং আলামত নষ্ট করতে তার জ্যাকেট আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন