যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কাইয়োগা মেডিকেল সেন্টারে গত ৩১ জানুয়ারি এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জন্ম নেয়া দুই নবজাতক তাদের ভিন্ন ভিন্ন ওজনের কারণে হাসপাতালের মাতৃত্ব বিভাগে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
প্রথমে টেরিকা ও শন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তাদের ছেলে শন জুনিয়র। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ১৩ পাউন্ড, যা হাসপাতালটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পরিবারটি ধারণা করেছিল শিশু কিছুটা বড় হতে পারে, তবে এতটা বড় হবে তা তারা ভাবেননি।
মা টেরিকা হাসপাতালকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা জানতাম ও একটু বড় হবে, কিন্তু এতটা কল্পনা করিনি। সে এখনই তিন থেকে ছয় মাসের শিশুর ডায়াপার ও পোশাক পরছে। মনে হচ্ছে যেন সরাসরি তিন মাসের শিশুর মা হয়ে গেছি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর একই হাসপাতালে ক্লোই ও ভিক্টর দম্পতির ঘরেও জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান। তবে এই নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র ৪ পাউন্ড। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বিপরীত ওজনের শিশুর জন্ম চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
ক্লোই বলেন, ঘটনাটি খুবই মধুর ছিল এবং মনে করিয়ে দেয় যে শিশুরা বিভিন্ন আকার ও ওজন নিয়ে জন্মায়। আমি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবার জন্য কৃতজ্ঞ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি জন্মই আলাদা এবং বিশেষ। ওজন যাই হোক না কেন, নবজাতক ও পরিবারের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে তারা সবসময় প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ফ্লোরিডার এইচসিএ ফ্লোরিডা ব্রান্ডন হাসপাতালে ‘জন’ নামের এক মাইক্রোপ্রিমি শিশুর অসাধারণ সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প সবার হৃদয় ছুঁয়েছে। অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া জন দীর্ঘদিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসক, নার্স ও থেরাপিস্টদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সে বেড়ে উঠে ১৭ পাউন্ড ৩.৫ আউন্স ওজনের সুস্থ শিশুরূপে বাড়ি ফেরে।
এনআইসিইউ টিম তার জন্য বিশেষ ‘গ্র্যাজুয়েশন ডে’ আয়োজন করে। নীল ক্যাপ ও গাউন পরিয়ে, রঙিন পমপম হাতে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে তাকে বিদায় জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনের এই লড়াই ও সাফল্য তাদের জন্য গর্বের এবং অনুপ্রেরণার।
সূত্র: এওএল টুডে।
