ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কেরমান প্রদেশের আঞ্চলিক ইউনিট দাবি করেছে, তারা কেরমান শহরের উপকণ্ঠে একটি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করেছে। বার্তা সংস্থা তাসনিমকে উদ্ধৃত করে অনলাইন আল জাজিরা বলেছে, এই ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ২৪ ঘণ্টায় তারা মোট তিনটি হারমেস ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ওদিকে কাতারের দোহা থেকে সাংবাদিক রসুল সরদার আতাস জানাচ্ছেন- আইআরজিসি জানিয়েছে তাদের স্থলবাহিনী এখন ইরান-ইরাক সীমান্তে চলমান সংঘর্ষে যুক্ত হয়েছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে। আরও উদ্বেগজনক খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হচ্ছে, এই কুর্দিদের অস্ত্র সহায়তা দিয়ে ইরাকে গণবিদ্রোহ উসকে দিতে কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কুর্দিরা বিশেষত এই সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয়। সেখানে ইরানি সেনাদের লড়াই করার গুরুত্ব দুইটি কারণে।
প্রথমত, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে মূলত আইআরজিসির বিমানবাহিনী সক্রিয় ছিল। তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ বিভিন্ন আক্রমণ পরিচালনা করছিল। কিন্তু এখন স্থলবাহিনী সীমান্ত রক্ষায় সক্রিয় হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইরানের নেতৃত্বের একটি বড় আশঙ্কা হলো- যদি দেশের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর শক্তি, দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সীমান্ত অঞ্চল অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে এবং বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বিদ্রোহে উৎসাহিত করতে পারে। এ বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে সিএনএন। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং ইরানের বিমানবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভেতরে যে কোনো ধরনের বিদ্রোহ দমন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এ অঞ্চলে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয় কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীকে। এরপর রয়েছে বেলুচ, আরব এবং সম্ভবত আজেরি গোষ্ঠী। এ ধরনের পরিস্থিতি ইরানের জন্য এক ধরনের দুঃস্বপ্নের চিত্র।
এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই অঞ্চলের কুর্দি নেতাদের যোগাযোগ হয়েছে। এ কারণেই ইরান এখন সীমান্ত অস্থিতিশীল হওয়া ঠেকাতে এবং জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সশস্ত্র বিদ্রোহ প্রতিরোধ করতে, সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
