ভারত আনছে শেষনাগ-১৫০

ড্রোন যুগ শুরু

ভারত আনছে শেষনাগ-১৫০

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব যখন ইরানের কম খরচের আত্মঘাতী ড্রোন শাহেদ-১৩৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের লুকাস ড্রোনের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব দেখছে, তখন ভারতও এই ধরনের যুদ্ধ প্রযুক্তির জবাবে নিজস্ব একটি ড্রোন তৈরি করছে। এর নাম দেখা হয়েছে শেষনাগ-১৫০। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। দূরপাল্লার এই ড্রোনটি তৈরি করছে ব্যাঙ্গালোর ভিত্তিক প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ নিউস্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস (এনআরটি)। ড্রোনটি প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানো হয় এক বছর আগে। তবে অপারেশন সিঁদুরের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই অভিযানের সময় ভারতীয় সামরিক বাহিনী এনআরটি’কে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অন্যান্য ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানায়। এরপর থেকেই দেশীয়ভাবে তৈরি দীর্ঘপাল্লার এই আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যা আগে শুধু একটি সম্ভাবনাময় গবেষণা প্রকল্প ছিল, এখন সেটিকে বাস্তব সামরিক প্রয়োজনের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে শেখা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বকে অসম যুদ্ধের একটি বড় উদাহরণ। ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন কম খরচের হলেও ব্যাপক সংখ্যায় ব্যবহার করে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই ড্রোনের ধারণা থেকেই আংশিক অনুপ্রাণিত হয়েছে শেষনাগ-১৫০। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোনও একই ধারণার ওপর তৈরি কম খরচের একটি উন্নত সংস্করণ। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে সস্তা, স্বয়ংক্রিয় এবং সংখ্যায় বেশি অস্ত্র অনেক সময় ব্যয়বহুল একক অস্ত্রের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেতরেও এখন শেষনাগ শ্রেণির ড্রোন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এটি সামরিক কৌশলে ড্রোন ব্যবহারের দিকে বড় পরিবর্তন আনছে।
শেষনাগ-১৫০ কী করতে পারে
শেষনাগ-১৫০ মূলত সমন্বিত আক্রমণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। একাধিক এই ড্রোন একসাথে আক্রমণ করে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে পারে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- কার্যক্ষমতার সীমা ১০০০ কিলোমিটারের বেশি। উড্ডয়ন স্থায়িত্ব ৫ ঘণ্টার বেশি। লক্ষ্য এলাকার ওপর দীর্ঘ সময় ঘোরাফেরা করে নজরদারি করতে পারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু লক্ষ্য শনাক্ত, অনুসরণ ও আক্রমণ করতে পারে। খুব কম বা কোনো মানব নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম। ২৫-৪০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বা বোমা বহন করতে পারে, যা অবকাঠামো, যানবাহন বা সেনাদের বড় ক্ষতি করতে পারে।
আসল শক্তি সফটওয়্যারে
এই ড্রোনের মূল শক্তি শুধু উড়ন্ত যান নয়, বরং এর অ্যালগরিদম ও নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার। ড্রোন বানানো তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু এমন একটি ‘মাদার-কোড’ তৈরি করা কঠিন, যা অনেকগুলো ড্রোনকে একসাথে যোগাযোগ করতে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণের পরিকল্পনা করতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে সাহায্য করবে।
প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন প্রযুক্তিগতভাবে শাহেদ-১৩৬ থেকে উন্নত। কারণ এটি ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থার সাথে যুক্ত, যা হ্যাক করা কঠিন। ভারতের শেষনাগ-১৫০ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এতে থাকবে ভিজ্যুয়াল নেভিগেশন সিস্টেম, যা এমন পরিবেশেও কাজ করতে পারবে যেখানে গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম বন্ধ বা অকার্যকর।
ড্রোন যুগের সূচনা
অপারেশন এপিক ফিউরি, অপারেশন সিঁদুর এবং ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ- সব মিলিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার। তাহলো ড্রোন যুদ্ধের যুগ শুরু হয়ে গেছে। কম খরচের, দ্রুত তৈরি করা যায় এবং প্রয়োজনে সহজে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Rana

৩ মাস আগে

🤮

মন্তব্য করুন