আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি এবং দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিলো। তবে নির্ধারিত সময়ে এসে প্রসিকিউশন জানায়, মামলাটির জন্য নতুন কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা ৪ সপ্তাহ সময় চাচ্ছি মামলাটির নতুন এভিডেন্স দাখিলের জন্য।
এ সময় মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী শারমিন সুলতানা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘আমার সিনিয়র ও মামলাটির লিস্ট আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন আপিল বিভাগে অন্য একটি মামলার শুনানিতে আছেন। কেন এই মামলাটির রায় ঘোষণা হবে না এটি জানতে তিনি ট্রাইব্যুনালে আসবেন। সুতরাং মামলাটির ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত না জানাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন শারমিন সুলতানা। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পাস ওভার করে রাখেন। অর্থাৎ এখন কজ লিস্টে থাকা অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম চলবে এবং রামপুরার মামলাটি সব শেষে শুনবেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এই মামলায় মোট আসামি ৫ জন। এর মধ্যে ৪ জন পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এদিকে মামলার আসামি পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। তখন বাসার কাছে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করলে আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় ওঠে। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে। পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনো রকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এ ছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের দুইজন নিহত হন।
রামপুরার মানবতাবিরোধী রায় ঘোষণা হচ্ছে না আজ
আরও ৪ সপ্তাহ সময় চাইলো প্রসিকিউশন
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
৩ মাস আগে
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬, ১২ঃ৪৩ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

জনতা
৩ মাস আগেএত পরিষ্কার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ থাকার পরও ৪ সপ্তাহ সময়, হাহাহা, বিষয়টি বুঝতে জনতাকে আইনস্টাইন হতে হবে না। অন্দর মহলে লাড়াছাড়া চলছে মনে হচ্ছে!! আবু সাইদ সাহেব সহ সব নিহত শহীদ ও আহত লোক গুলোর জন্য সত্যিই বড় আফসোস হয়, কেন তারা এমন একটি দেশে জন্ম নিলো?