স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে কারা, বিএনপিতে আলোচনা

সহযোগীদের খবর

স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে কারা, বিএনপিতে আলোচনা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে কারা, বিএনপিতে আলোচনা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের বয়স ১৫ দিন পার হলো। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিদ্ধান্ত—রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে আসছেন। এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে দলটি। বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর নাম।

রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও আলোচনায় ছিল।

তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই বেশি আলোচনায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে নিয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাদের নাম বিবেচনায়—জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন—সে প্রশ্ন তোলেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিএনপিতে তিন-চারজন আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো শেষ হয়নি।’

তবে বিএনপির নেতাদের অনেকে মনে করেন, শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা দরকার। এমনকি বিরোধী দলের দিক থেকেও বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবি উঠেছে।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীই সংসদ নেতা হন। এ ছাড়া সংসদ উপনেতা নির্বাচন করে সরকারি দল। সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সংবিধানে সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিধান নেই। তবে অতীতের সংসদ উপনেতা করার নজির রয়েছে। বিএনপির নেতাদের কারও কারও মতে, এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

স্পিকার পদে আলোচিত মুখ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আলোচনায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুজনেরই সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ওসমান ফারুক—দুজনের নামই সামনে আসছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে তিনিও আলোচনায় আছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্পিকার হওয়ার মতো যোগ্য বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপিতে আছেন, যেমন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও জয়নুল আবেদীন।

১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে। ওই অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়া হবে। এ জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।

সাংবিধানিক বিধান ও কার্যপ্রণালি

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এ দুই পদের যে কোনোটি শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা ওই সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে যে কোনো সদস্য অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে সম্বোধন করে লিখিত প্রস্তাব দিতে পারেন। প্রস্তাবটি তৃতীয় একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়। যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে, তিনি নির্বাচিত হলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সম্মত—এমন একটি বিবৃতি নোটিশের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়।

কোনো সদস্য নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারেন না। নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারেন না। যথাযথভাবে উত্থাপিত ও সমর্থিত প্রস্তাবগুলো উত্থাপনের ক্রমানুসারে ভোটে দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে বিভক্তি-ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়ে গেলে অবশিষ্ট প্রস্তাবগুলো আর ভোটে দেওয়া হয় না। একই পদ্ধতিতে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।

নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন স্পিকার শপথ নেওয়ার পর তাঁর সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনও হতে পারে।

রাষ্ট্রপতিও সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে এ পদেও সরকারি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে ওঠে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসেন জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে।

সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে না। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে। তার আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করেছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা, রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন; রাজনৈতিক অঙ্গনে সেটা এখন আলোচ্য বিষয়।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘ঈদে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে বিশেষ ঋণ’। খবরে বলা হয়, আসন্ন ঈদে রপ্তানিমুখী শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুধু সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারীদের গড়ে ৩ মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ নিতে পারবে। এই ঋণের সুদহার হবে বাজারভিত্তিক এবং তা সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। শিল্পমালিকরা সরাসরি ঋণের অর্থ পাবেন না। অন্যদিকে একই কারণে বকেয়া নগদ প্রণোদনার দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে আসন্ন ঈদের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চায়। কেননা অনেক তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েছে। এ কারণে ঈদের আগে এ ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু যুগান্তরকে বলেন, গত ৭ মাস পোশাক রপ্তানিতে কমে গেছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চেও কাজ কম হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে অসুবিধা হতে পারে, বিধায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ঋণ আদৌ কোনো শিল্পমালিক গ্রহণ করতে চান কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কেননা ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক রাখা হয়েছে। তাছাড়া যেসব শিল্পের সুনাম রয়েছে, তাদের এ ঋণের অর্থ প্রয়োজন পড়বে না।

সার্কুলারে বলা হয়, সচল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারির বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে প্রযোজ্যতা অনুসারে গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণপূর্বক মেয়াদি ঋণ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। উক্ত ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিগত ৩ মাসের প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার অধিক হবে না। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারির বেতন-ভাতার অর্থ প্রদান করবে। ঋণের অর্থ মেয়াদি ঋণ আকারে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১ বছরে সমকিস্তিতে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আদায় করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের নভেম্বর হতে জানুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল হিসাবে বিবেচিত হবে। সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

এ ধরনের ঋণের ওপর নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত সুদ বা মুনাফা বা ফি কিংবা চার্জ (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় বা আরোপ করা যাবে না।

কালের কণ্ঠ

‘এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চয়তায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ফলে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশ কতটা রক্ষা পাবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কম্পানি কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি সৌদি আরামকো তাদের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রেখেছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগই আমদানি করা হয়। অপরিশোধিত তেলের পুরোটা আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। পরিশোধিত তেল আসে বিভিন্ন দেশ থেকে। অন্যদিকে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে, যার বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল মঙ্গলবার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় দুই হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকিটা দেশীয় কূপগুলো থেকে উৎপাদন করে সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সামনে এলএনজির সরবরাহ এক হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বাড়তে পারে। পাশাপাশি পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে শিল্প, পরিবহন ও আবাসিকে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকেই চাহিদার বড় অংশ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাকিটা কয়লা, তেল থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে অবশ্যই বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পরবে।’

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। এ ছাড়া খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে ৫৯টি কার্গো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘সরকারি ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে’। খবরে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।

এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন, বিভিন্ন ভর্তুকি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশের বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে। নির্বাচিত সরকারকে অর্থবছরের বাকি সময়ে এই হিসাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থবছরের ছয় মাসে সার্বিক বাজেট বাস্তবায়ন দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে পরিচালন ব্যয়ের কারণে। উন্নয়ন ব্যয়ের হার খুবই কম।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গত অন্তর্বর্তী সরকার সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করে। বাজেটের দুটি অংশ— পরিচালন ও উন্নয়ন। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৮৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং এ খাতে বরাদ্দের ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিচালন ব্যয় ছিল এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে যা ছিল ৮৩ শতাংশ এবং ছয় মাসে বাস্তবায়ন হার ছিল ৩৭ শতাংশ। চলতি বাজেটে পরিচালন খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা।

উন্নয়ন খাতে ছয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৩১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয় ছিল ৩৯ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প স্থগিত, পুনর্মূল্যায়ন ও ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপসহ নানা কারণে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

দেশে বাজেটের আকার প্রতিবছরই বাড়ে। কিন্তু ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আগের অর্থবছরের সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয়। সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানতে ব্যয় সাশ্রয়ী নির্দেশনা দিয়ে একাধিক প্রজ্ঞাপনও জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সত্ত্বেও পরিচালন বাজেটের আওতায় ধারাবাহিকভাবে ব্যয় বেড়েছে। সরকারের ব্যয়ে লাগাম টানা সম্ভব হয়নি।

রাজস্ব আয় ও পরিচালন ব্যয় প্রায় সমান

অন্তর্বর্তী সরকার বাজেট সংশোধন করে যা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে কাটছাঁট হয়েছে মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন খাত থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে পরিচালন খাতে ২৮ হাজার কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেতন-ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পরিচালন ব্যয় দুই লাখ ২০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ছয় লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল চার লাখ ৭৪ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। অনুদানসহ মোট রাজস্ব আদায় হয় চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব ও পরিচালন ব্যয় প্রায় সমান থাকলেও নব্বইয়ের দশকের পর এমন বড় ঘাটতি আর দেখা যায়নি।

ইত্তেফাক

‘জ্বালানিতে যুদ্ধের প্রভাব: এ মাসে শঙ্কা না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে দুশ্চিন্তা বাড়ছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উত্পাদন সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশসহ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ফলে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে চলতি মার্চে জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সংস্থান করা ব্যয়বহুল ও কঠিন হবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে এলএনজি উত্পাদন বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় এবং বিকল্প উত্স থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় কিনা, তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুত্ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি এলএনজি উত্পাদন ও রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সময়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি বন্ধ রাখে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ বা সীমিত রয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগই আমদানি করা হয়। অপরিশোধিত তেল পুরোপুরি আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আর পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় কয়েকটি দেশ থেকে। মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল মঙ্গলবার সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট; বাকিটা দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্পাদিত। বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় সামনে এলএনজি সরবরাহ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমদানি ব্যাহত হলে তা সম্ভব না-ও হতে পারে। এতে বিদ্যুত্ উত্পাদন কমে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে শিল্প, পরিবহন ও আবাসিক খাতে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

পেট্রোবাংলা জানায়, চলতি বছরে মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি এবং ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। বাকি ৫৯টি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মার্চ মাসে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে ১১টি কার্গো আসার কথা, যার ৯টি ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে নতুন জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এতে দৈনিক প্রায় ২০০-২২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যেতে পারে। বর্তমানে গড়ে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও তা ৭০০ মিলিয়নে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাস ঘাটতি দেখা দিলে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ দেওয়া হতে পারে; আবাসিক ও পরিবহন খাতে সমন্বয় করা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহে সংকট তৈরি হলে সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার বিকল্প বিবেচনা করছে। তবে স্পট মার্কেটে দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ভর্তুকির চাপ বাড়াবে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘পুশইন বাড়ার আশঙ্কা’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ এমন এক ভূরাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সীমান্ত মানেই শুধু মানচিত্রের দাগ নয়- এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, কূটনীতি এবং মানবাধিকারের এক জটিল সমীকরণ। পশ্চিমে ভারত, পূর্বে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর- এই ত্রিমুখী বাস্তবতায় প্রতিটি সীমান্তই সম্ভাবনা ও সঙ্কটের সমান বাহক। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে প্রায় ৬৪ লাখ নাম বাদ পড়া এবং তাদের একটি বড় অংশকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক সীমান্ত ঠেলে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়- বরং সীমান্ত রাজনীতি, পরিচয় রাজনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের একটি জটিল সমন্বয়, যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে পড়তে পারে।

এসআইআর জটিলতা : সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবরে রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা নেমে আসে ৭ কোটি ৮ লাখে। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় ৫৮ লাখ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।

এরপর আপত্তি, সংশোধন ও যাচাই-বাছাই শেষে আরো প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম- যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু বাদ পড়াই নয়, আরো ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের পরিচয় এখন ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার বৈধ কি না, তা নথিপত্র পরীক্ষা করে নির্ধারণ করবেন বিচারকরা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া শেষে একাধিক পরিপূরক তালিকা প্রকাশিত হবে। তখনই প্রকৃত ভোটার সংখ্যা স্পষ্ট হবে।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো- বিচারাধীন ভোটারের বড় অংশই সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে কেন্দ্রীভূত। মুর্শিদাবাদে ১১ লাখের বেশি, মালদায় প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ৯১ হাজার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই চার জেলাতেই বিচারাধীন ভোটারের প্রায় অর্ধেকের বসবাস, যাদের বড় অংশ সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া বা সন্দেহের তালিকায় রাখা শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; এটি পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নতুন সামাজিক ও কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশমুখী চাপ বা পুশইনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ফলে এসআইআর এখন আর শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয় নয়- এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বণিক বার্তা

‘আট আরব দেশে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ’-এটি বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ও জর্ডানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে সেসব দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। গতকাল সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। ইরান সৌদি আরবে আবারো হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে গতকালও ইসরায়েল এবং আরব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ওমানে দুকম বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালেও। এদিকে ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭-এ দাঁড়িয়েছে। গত চারদিন ধরে দেশটিতে চলা দফায় দফায় হামলায় আহত হয়েছেন আরো হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া লেবাননে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আর অভিযানে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।

গতকাল রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলার কথা জানায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ‘হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও ভবনের সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের ঘরে অবস্থান ও কূটনৈতিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়ে দূতাবাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। একই দিনে সৌদি আরবে কানাডার দূতাবাসও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জনসাধারণের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ৬ মার্চ পর্যন্ত সব সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে।’

কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানায়। নিয়মিত ও জরুরি কনস্যুলার সেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জর্ডানের আম্মানে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন দূতাবাস সোমবার সন্ধ্যায় সব কর্মী সরিয়ে নেয়। বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রাজধানী মানামায় হোটেলগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছে। এছাড়া লেবাননের বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওমানে মার্কিন দূতাবাস কর্মী ও নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবুধাবিতে ইসরায়েলি দূতাবাস ভবন ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এক ইসরায়েলি নারী ও তার সন্তান ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা অভিযান ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না এ আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যদি প্রতিবেশী কোনো দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য দেশে হামলা ও আগ্রাসন চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি আমাদের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়া সত্ত্বেও ইরান সরকার সচল রয়েছে। দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘‌বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ প্রাদেশিক নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছে। আমরা গভর্নরদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতি জরুরি, কিন্তু দেশ থমকে যায়নি। নিয়মিত কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ছাড় দিচ্ছে না কেউ, বড় হচ্ছে যুদ্ধ’। খবরে বলা হয়, ইরানজুড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলায় জবাব দিচ্ছে ইরান। নিজেদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোকজন সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

এই পরিস্থিতিতে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবেন না। স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আর ইরান বলেছে, আগ্রাসন চলছে, তারাও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে।

ইরানে হামলার চতুর্থ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন পর্যন্ত হামলায় ইরানে নিহত হয়েছে ৭৮৭ জন। আর ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০। এ ছাড়া ইরানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গতকাল জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি শহরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ৫০৪টি স্থানে ১ হাজার ৩৯টি হামলা হয়েছে।

হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক টুইটে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৫টি দেশের ভূখণ্ড অথবা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দেশগুলো হলো ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, বাহরাইন, ওমান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।

গতকাল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলা ছিল সৌদি আরবে। গতকাল ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা হয়। এতে সীমিত মাত্রায় আগুন লাগে। পরে দেশটিতে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া হামলার জেরে কুয়েতের দূতাবাসের কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল এ প্রসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে সামরিক স্থাপনার বাইরেও হামলা হবে।

গতকাল ইরানের আইআরজিসি বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে আইআরএনএ জানায়, আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, তাদের নৌবাহিনী ভোরে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটিটির কমান্ড সদর দপ্তর ‘ধ্বংস করা হয়েছে’। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘বারুদে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য’-এটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে জ্বলছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে গেছে তেহরান থেকে তেল আবির, রিয়াদ থেকে বৈরুত, দুবাই থেকে নিকোশিয়া (সাইপ্রাস) পর্যন্ত। সংঘাতের চতুর্থ দিন গতকালও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানের ৭৮৭ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করার পাশাপাশি নিজ দেশের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এদিকে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ এবং ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা হোটেলে হামলা চালিয়েছে শিয়াপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। জবাবে লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গতকাল রাতেও ইরানের বিভিন্ন শহরে শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। তেহরানে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গত কয়েক রাতের তুলনায় সোমবার রাতের এ বোমাবর্ষণ ছিল অনেক বেশি ভয়াবহ। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের একটি ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনেও বিপুল বোমাবর্ষণ হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘কঠিন ঝুঁকিতে লক্ষাধিক শ্রমিক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর আরব-আমিরাত থেকে দেশে আসেন আবদুর রহিম। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার তারিখ ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। সব প্রস্তুতি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ইরান হামলার কারণে ফ্লাইট স্থগিত। এই তথ্য শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে যান গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে জানান, তার সবশেষ হয়ে গেছে। ভিসার মেয়াদের শেষ দিন ছিল গতকাল। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। প্রতিদিনই তার মতো কয়েক হাজার প্রবাসী শ্রমিক রাজধানীর শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। ফ্লাইট বাতিলের খবরে তাদের আহাজারিতে গত কয়েক দিন বিমানবন্দরের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অন্তত লক্ষাধিক শ্রমিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদের বেশির ভাগেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা শেষ হওয়ার পথে। আগামী ১৫ দিন এভাবে চলতে থাকলে শ্রমবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকারকে এ ব্যাপারে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। যেসব দেশে শ্রমিকরা আছেন এবং যাচ্ছেন ওইসব দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে ভিসার মেয়াদ বাড়াতেই হবে। তা ছাড়া অনেকে বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রানজিট নিয়ে দেশে আসার সময় আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট চলাচল না করায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে না খেয়েও দিন-রাত পার করছেন বলে তথ্য মিলছে।

বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি রুটে ইউএস-বাংলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চলাচল করছে। ওইসব ফ্লাইটে যারা আসছেন, তারাও ভয়ের মধ্যে থাকছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। হঠাৎ হঠাৎ আক্রমণ করছে ইরান। আবার আমেরিকা ও ইসরাইলও পাল্টা আক্রমণ করছে। এসব কারণে প্রতিদিনই ফ্লাইটের সংখ্যা কমে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় সব রুটেই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। গতকাল পর্যন্ত ১৮২টি ফ্লাইট চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কর্মীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টিতে বেশি প্রাধান্য দেওয়া দরকার। যুদ্ধের কারণে অনেক শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিকল্পভাবে তাদের কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতে শ্রমিকরা অসহায়। আমরা যতটুকু পারছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’ একই কথা বলেছেন বায়রার নেতা মোবারক উল্লাহ শিমুলও। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের নিয়ে আমরাও উদ্বেগের মধ্যে আছি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন