কুড়িগ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় আফরোজা বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে রাতভর বিক্ষোভ করেছে রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কর্মবিরতি পালন করে চিকিৎসক ও নার্সরা। এমন পরিস্থিতিতে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত সোমবার বিকালে কুড়িগ্রাম শহরের হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পেশারজনিত কারণে হাসপাতালে আসলে এ সময় নার্সরা ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে গড়িমসি করে সময়ক্ষেপণ করে। এতে রোগীর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। এ সময় রোগীর স্বজন এবং নার্সদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিতর্ক চলাকালে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রোগীর স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসলে নার্সরা এ সময় মোবাইলে লুডু খেলতে ব্যস্ত ছিল। রোগীর অবস্থা খারাপের কারণে আমরা তাদেরকে তাড়া দেই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কাগজপত্রের জটিলতা দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। শুধুমাত্র রোগীকে ভর্তি হতেই এক ঘণ্টা সময় নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে রোগী আফরোজা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মৃত ব্যক্তির শরীরে স্যালাইন দেয়া শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে ডাক্তার শুভ’র নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন রোগীর ছোট ভাইকে অন্য একটি কক্ষে দরজা লাগিয়ে বেদম মারপিট করে। এ সময় হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. শুভ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীকে ভর্তি না করে চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা ভর্তি ছাড়াই চিকিৎসা করাতে চাপ প্রয়োগ করে। তাছাড়া আমি কিংবা আমার স্টাফরা তাদের কাউকে মারধর করিনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে আপনারা প্রমাণ পাবেন। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, রোগী এবং নার্স উভয়েই অপেশাদারিত্ব আচরণ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন