মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে ভারতের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েল হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইরানের পাল্টা আঘাতের ফলে তা তীব্রতর হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হলে তার ভারতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারত এই বিবৃতিতে বলেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর পশ্চিম এশীয় অঞ্চল বর্তমানে যে ভাবে সংঘর্ষের ফলে জ্বলছে তাতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ অঞ্চলটি ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডোরগুলির মধ্যে একটি, যা জ্বালানি আমদানি, পণ্য বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক সংযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।
পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে চলমান সংঘাতের বিষয়ে বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই সময় ভারত সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, পবিত্র রমজান মাসে এই অঞ্চলের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য এবং ধারাবাহিক অবনতি ঘটে চলেছে বলে বিবৃতিতে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
জানানো হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বাস করেন এবং কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না। আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে যেকোনো বড় ধরনের বিঘ্ন হলে। তাই ভারতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী কর্মীবাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকরা বিশিষ্ট। তাই ভারত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর আক্রমণের দৃঢ় বিরোধিতা করেছে। ইতিমধ্যেই, গত কয়েকদিনে এই ধরনের আক্রমণের ফলে কিছু ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিখোঁজ হয়েছেন বলে ভারত দাবি করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন