শিশুদের শ্রবণ শক্তি নিয়ে যত্নবান হতে হবে

বিশ্ব শ্রবণ দিবসের আলোচনায় বক্তারা

শিশুদের শ্রবণ শক্তি নিয়ে যত্নবান হতে হবে

ফন্ট সাইজ:

সচেতনতার অভাবে অনেক শিশুরা শ্রবণ শক্তি হারাচ্ছে। পরিবার ও অভিভাবক সচেতন হলে এই শিশুদের শ্রবণ শক্তি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্কুল পর্যায় হেলথ হেয়ারিং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হেয়ারিং হেলথকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যর সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। শ্রবণ স্বাস্থ্যের জন্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব শ্রবণ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবার থেকে শ্রেণিকক্ষ: প্রতিটি শিশুর জন্য শ্রবণসেবা নিশ্চিত করি’। দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ দি ইএনটি এন্ড হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইএনটি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদারসহ বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন।
র‌্যালি পরবর্তীতে হাসপাতালের সভাকক্ষে ‘এখনই উদ্যোগ নিন, যাতে কান বা শ্রবণ সমস্যার কারণে কোনো শিশুই পিছিয়ে না পড়ে’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, কানের সুরক্ষার বিষয় পরিবার থেকে আমাদের যত্নবান হতে হবে। আইন করে কাউকে দায়িত্বশীল করা যায় না। যদি মানুষ সচেতন না হয়। ইএনটি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর এম আলাউদ্দিনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তার উদ্যোগ ছিল দুর্দান্ত ও সাহসী। এখন যারা নেতৃত্বে আছেন তারাও পারবেন। সেমিনারে সাবেক সচিব এটিএম সরওয়ার হোসেন বলেন, শিশুদের যদি মেধা বিকাশ না হয় তাহলে সবকিছুই বৃথা। আমাদেরকে তাদের মেধা বিকাশে পরিবার থেকেই সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ খান বলেন, শিশুদের শ্রবণের প্রতি আমাদের যত্নবান হতে হবে। কারণ বাচ্চারা টিভি দেখতে গিয়ে যদি বেশি শব্দ বাড়ায় তখন বুঝতে হবে হেয়ারিং সমস্যা রয়েছে। তাই তিনি স্কুল পর্যায় হেলথ হেয়ারিং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। হেয়ারিং হেলথকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যর সঙ্গে যুক্ত করারও আহ্বান জানান।

নাক, কান ও গলা বিষয়ে প্রতিথযশা চিকিৎসক এবং দি ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার ৫০ বছরের উপরের বয়স্কদের জন্য হেয়ারিং সেন্টার করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। তিনি বলেন, এই হাসপাতালটিতে দিনে ৭০ জন রোগী দেখার মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন এখান থেকে।
আয়োজকরা জানান, পৃথিবীতে ৮০০ মিলিয়ন লোক শ্রবণ সমস্যায় ভোগে, এর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ৪০০ মিলিয়ন জনসংখ্যাকে উপযুক্ত চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব। দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় বধিরতায় ভোগেন। এ হিসাবে দেশে ১৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ শ্রবণ শক্তিতে দুর্বল। এটা আগের গবেষণায় বলা হলেও এখন এটা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক ডা. নাসিমা আক্তার, হেয়ার এইড’র জিএম মোশারফ হোসেন, ডা. আলী ইমাম আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. জাহানারা আলাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেসিডেন্ট সার্জন ডা. আবির সালিম চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ২০০৭ সালের ৩রা মার্চ প্রথমবারের মতো পালিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার কেয়ার ডে’ বা আন্তর্জাতিক কর্ণ যত্ন দিবস। তখন শব্দদূষণকে শ্রবণ হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য প্রচারণা চালানো হতো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন