নেছারাবাদে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩০) নামে এক অটোচালককে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে চুরির অভিযোগ দিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওই যুবক অপমান সইতে না পেরে বাড়িতে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম বইছে। ঘটনাটি উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহারি গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত সবুজের ঘরে পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তার মায়ের অভিযোগ তার ছেলেকে ‘মারধর করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। পরে লোক লজ্জায় বাড়িতে এসে সবার অগোচরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মৃত সবুজের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, গত সোমবার সকালে গ্রাম চৌকিদার হানিফ মিয়া ‘কথা আছে’ বলে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে রুবেল হোসেন নামে এক দোকানি ও চৌকিদার মো. হানিফ মিয়া মিলে তাকে বেদম মারধর করেন। তাদের মারধর থেকে রেহাই পেতে ছেলে চুরির কথা স্বীকার করে লিখিত দিতে বাধ্য হয়। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মেম্বারের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগে বলেন, আমার ছেলে অটো চালিয়ে সংসার চালাতো। তাকে মেরে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি নিয়ে কাগজে সই নেয়া হয়েছে। সেই লজ্জা সইতে না পেরে সে বিষ খেয়ে মারা গেল। মৃতের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, আমার স্বামী অটো চালায় কিন্তু সে চোর নয়। জোর করে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে চুরির স্বীকারোক্তি নিয়েছে। আমার শিশু সন্তান জুনায়েদের মাথায় হাত রেখে স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম চুরি করছো কিনা? সে বলেছে, করে নাই! মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরেই স্বামী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। অভিযুক্ত চৌকিদার মো. হানিফ মিয়া দাবি করেন, সবুজ গ্রামের কয়েকটি দোকান থেকে চুরি করেছে। চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে পরিষদে ডেকে আনা হয় এবং সেখানে সে স্বেচ্ছায় লিখিত স্বীকারোক্তি দেয়। কোনো মারধর করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে বিষপানের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি চৌকিদার হানিফ মিয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শানু মিয়া বলেন, সে পরিষদে এসে চুরির কথা স্বীকার করেছে। লিখিত নেয়া হয়েছে। মারধরের প্রশ্নই ওঠে না। বিষপানের বিষয়ে তিনি বলেন, এজন্য নাকি বাড়িতে গিয়ে বিষপান করেছে বলে শুনেছি। তিনি আরও বলেন, বিষপানে ওই যুবক মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে বরিশাল হাসপাতালে মারা গেছে। নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন-লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতন, লজ্জায় আত্মহত্যা
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
