সিলেটে সংবাদ সম্মেলন

ওয়াকিটকি উদ্ধার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের শিকার লিটন

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরের বিমানবন্দর রোড এলাকায় চেকপোস্টে ওয়াকিটকি উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ী লিটন মিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন তার পরিবার। মঙ্গলবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটনের বড় ভাই মরম আলী এ অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন- চেকপোস্টে আটকের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিকল্পিতভাবে তার ভাই ও গাড়িচালক জুনায়েদ আহমদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে মরম আলী বলেন, তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তৈমুন নগর গ্রামের বাসিন্দা। তার ছোট ভাই লিটন মিয়া একজন সংবাদকর্মী এবং গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি পারিবারিক ব্যবসাও পরিচালনা করেন এবং তিন সন্তানের জনক। তিনি জানান, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট রোডস্থ এডভেঞ্চার ওয়াল্ড এলাকায় পুলিশের একটি চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়। এসময় গাড়ি থেকে লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ আহমদকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়ির পেছনের সিট থেকে একটি ওয়াকিটকি এবং পরে পেছনের ঢালা থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। মরম আলীর দাবি, ঘটনার আগের রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই কামরুল নিজস্ব গাড়িতে সিলেট নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পরিচিত হওয়ায় লিটনকে গাড়িতে তুলে নেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে এসআই কামরুল মাঝপথে নেমে যান এবং গাড়িটি লিটন ও চালকসহ সিলেটের দিকে আসে। তিনি বলেন, চেকপোস্টে আটকের পর লিটন ও চালক কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের জানান যে, গাড়ি ও ওয়াকিটকি এসআই কামরুলের। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে এসআই কামরুল ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি ও সরঞ্জামের মালিকানা স্বীকার করেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে লিটন ও জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন মরম আলী। তার দাবি, এসআই কামরুলের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার ভাইয়ের পেশাগত অবস্থান ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দেয়া হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং অবিলম্বে লিটন মিয়া ও জুনায়েদের মুক্তি চান। একইসঙ্গে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিটন মিয়ার ভাই কোম্পানীগঞ্জ ট্রাক, পিক-আপ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কবির হোসেন, লিটনের শিশু সন্তান রাফি আহমদ, জুনায়েদের ভাই শিব্বির আহমদ, আব্দুল আল মামুনসহ পরিবারের সদস্যরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন