ঢাকার নবাবগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বন্ধক রাখা স্বর্ণ আত্মসাৎ ও স্বর্ণ ফেরত দেয়ার কথা বলে কৌশলে নিয়ে মারধর করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে বাগমারা বাজারের দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তচর গ্রামের বাসিন্দা মুরগি ব্যবসায়ী হুমায়ুন (৬০) বাদী হয়ে ওই দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ তিনজনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, বাগমারা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের সুশান্ত সরকারের ছেলে রাজেশ সরকার (২৮) ও বাহ্রা পশ্চিমপাড়া গ্রামের পরশমনির ছেলে রূপ কুমার (৩০)। এ ছাড়াও রূপের ছোট ভাই সবুজ মনি (২৮)কে এবং অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের নথি থেকে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে হুমায়ুন গত ২০২৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি রাজেশের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে ৩ লাখ টাকা নেন। একই বছর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে হুমায়ুন রাজেশকে সুদসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত চাইলে রাজেশ জানায় স্বর্ণ রূপের কাছে জমা আছে। ৩/৪ দিন পর ফেরত দিয়ে দিবে। পরে স্বর্ণ ফেরত না দিয়ে আজ দিবে কাল দিবে বলে তিন মাস ঘুরাইতে থাকে। এরপর বাধ্য হয়ে হুমায়ুন বিষয়টি বাগমারা বাজার বণিক সমিতিকে জানিয়ে বিচার চাইলে তারা কয়েকবার রাজেশ ও রূপের সঙ্গে বসে মীমাংসার চেষ্টা চালালে তাদেরও ঘুরাতে থাকে। সর্বশেষ এ বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি বাগমারা বাজার বণিক সমিতির সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজেশ ও রূপ জানায় স্বর্ণ তাঁতীবাজার থেকে কিনে এনে দিতে হবে। বর্তমানে স্বর্ণের দাম বেশি থাকায় হুমায়ুনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিতে হবে। সহজ সরল মনে হুমায়ুন এতে রাজি হলে সেদিন বিকালেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে রাজেশ ও রূপের সঙ্গে সিএনজি করে তাঁতীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলে টিকরপুর এলাকার এন মল্লিক তেলের পাম্পের পূর্ব পাশের ফাঁকা সড়কে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রূপের ছোট ভাই সবুজসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন তাদের সিএনজির গতিরোধ করে সকলে মিলে হুমায়ুনকে মারধর করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মারধরের কারণে হুমায়ুন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজেশ বলেন, আমার কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে হুমায়ুন তিন লাখ টাকা নিয়েছিলো। কয়েকমাস পরে সে টাকা পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত চায়। তবে আমি স্বর্ণটা তাঁতীবাজার এক মহাজনের কাছে জমা রাখায় দিতে পারছিলাম না। বাগমারা বাজার কমিটির সদস্যরা আমাকে চাপ দিলে আমি তাদের মাধ্যমে হুমায়ুনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা কিস্তি তুলে পরিশোধ করি। এ টাকা নিয়ে হুমায়ুন ও তার এলাকার মজিদ ভাই স্বর্ণ আনতে রূপের সঙ্গে ঢাকার তাঁতীবাজারে যাওয়ার পথে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আমি ছিলাম না। এ বিষয়ে রূপের সঙ্গে কথা বলতে তার বাগমারা বাজার স্বর্ণপট্টির মায়ের আশীর্বাদ স্বর্ণ বিতানে গেলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। নবাবগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন- এ ঘটনায় অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর বন্ধক রাখা স্বর্ণ আত্মসাৎ ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
