হাত বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বৃদ্ধাকে খুন, মালামাল লুট

উত্তরায় বাসায় ডাকাতি

হাত বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বৃদ্ধাকে খুন, মালামাল লুট

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসায় ডাকাতির সময় দুর্বৃত্তদের হাতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর নাম রেজিনা মমতাজ (৬৬)। তিনি পরিবারের সঙ্গে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ই-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের নিজ বাসায় থাকতেন। তার স্বামী মাহে আলম তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ায় তিনি বাসায় একা ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হাত বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বাসার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার আনুমানিক রাত ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার সকাল এগারোটার দিকে রেজিনার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর দরজা খুলে দেখতে পান হাত বাঁধা এবং চোখে, নাকে-মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় রেজিনা মমতাজকে ফেলে রাখা হয়েছে। তার মুখে কাপড় গোঁজা ছিল।

নিহত রেজিনা মমতাজের ছেলে রাইসুল আলম বলেন, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে বাড়িটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। চারতলা পর্যন্ত বাসযোগ্য করা হয়েছে। দোতলায় একটি অফিস ও চারতলায় একটি পরিবারকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। তিনতলায় বাবা-মা থাকেন। বাবা ব্যাংকে চাকরি করতেন। সোমবার রাতে বাবা তারাবির নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। এ সময় মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দুই অপরিচিত ব্যক্তি বাসায় ঢোকে। ঘণ্টাখানেক পরে তারা বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর বাসার দারোয়ানের স্ত্রী আমার মাকে ডাকতে গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। ভেতরে টিভির শব্দ পাওয়া যচ্ছিলো। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে শব্দ না পেয়ে ওই নারী তার স্বামীকে বিষয়টি বলেন। এরপর বাসার দারোয়ান মসজিদ থেকে বাবাকে ডেকে আনেন। সঙ্গে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাবা দেখতে পান মাকে তার হাত বেঁধে চোখে, নাকে-মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। দ্রুত মুখ থেকে টেপ খুলে দেয়া হলেও তিনি রেসপন্স করছিলেন না। তার মুখে কাপড় গোঁজা ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা দুই ভাই এবং দুজনই কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকি। তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাটের দরজার সামনে ক্যামেরায় দেখা গেছে দুর্বৃত্তরা হাত দিয়ে এটি ডিসকানেক্ট করে দিয়েছে। আমাদের বাসার দরজাটা বাইরে থেকে চাবি ছাড়া খোলা যায় না। সেটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। হত্যাকারীরা নিশ্চয়ই মাকে এমন কিছু বলেছিল যাতে মা ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিয়েছিল।

ঘটনাটি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার আগে ওই বাড়ির চারতলার ভাড়াটিয়া নূরে আলম নিচে নেমে দারোয়ানকে কিছু একটা কিনতে পাঠায়। এই সুযোগে এক ব্যক্তি বাইরে থেকে এসে নূরে আলমের সঙ্গে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, সেখানে মুখে মাস্ক পরা দুজনকে দেখতে পেয়ে দারোয়ানের স্ত্রীর সন্দেহ হয়। তারপর তিনি তার স্বামীকে ডেকে এনে তিনতলায় বাড়িওয়ালার দরজার সামনে যান। কিন্তু দরজা লক থাকায় তারা বাসায় ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দও তারা পাননি। পরে বাড়ির মালিককে মসজিদ থেকে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখেন মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় রেজিনা মমতাজ পড়ে আছেন। এবং পুরো বাসা তছনছ করা। পরে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তুরাগ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, রেজিনা মমতাজ ও তার স্বামী মাহে আলম নিজ বাসার তিনতলায় থাকতেন। মাহে আলম তারাবির নামাজ পড়তে যান এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বাসার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রেজিনা বেগমের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন