৫ই মার্চ পর্যন্ত বিমানের ৬ রুটের সব ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি

৫ই মার্চ পর্যন্ত বিমানের ৬ রুটের সব ফ্লাইট বাতিল

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ২৮শে ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মঙ্গলবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৩৮টি ফ্লাইট 
বাতিল হয়েছে। এর আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১লা মার্চ ৪০টি এবং ২রা মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত কয়েকদিনে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটলো, যার বড় অংশই ছিল মধ্যপ্রাচ্যগামী। প্রায় দেড় শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫ই মার্চ পর্যন্ত ৬টি রুটে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকা মিলেছে। সেখানে দেখা যায়- বাতিল হওয়া ১৪৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাতিল হয়েছে ২৩টি ফ্লাইট। এরমধ্যে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১টি, গালফ এয়ারের ১টি, ফ্লাই দুবাই ১টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৬টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি। ১লা মার্চ মোট ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজ ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৫টি, গালফ এয়ার ২টি, ফ্লাই দুবাই ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ২টি, সালাম এয়ার ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৮টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৪টি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ২রা মার্চ বাতিল হয়েছে ৪৬টি ফ্লাইট। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৫টি, গালফ এয়ার ২টি, ফ্লাই দুবাই ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪টি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ৩রা মার্চ মোট ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরমধ্যে কাতার এয়ারলাইন্সের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, গালফ এয়ারের ৪টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি, কুয়েত এয়ারের ২টি, জাজিরা এয়ারের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ১২টি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর বাইরেও আরও কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ড বন্ধ রয়েছে। তাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট ও ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়া’র মধ্যপ্রাচ্যগামী ২টি ডিপার্চার ফ্লাইট ও ২টি অ্যারাইভাল বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইট সকাল ৮টা ৫ মিনিটে অবতরণ করে পুনরায় যাত্রী দিয়ে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ৯টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। একইভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মদিনা থেকে আসা ফ্লাইট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল সকালের ৭টি বাতিল হওয়া ফ্লাইটসহ বিমানবন্দরে সর্বমোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৫ই মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। গতকাল দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয় বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেয়া হবে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন