আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার কারণেই বিগত ১৬ বছর দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুকÑ তা আমরা আর দেখতে চাই না। তাই জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত। বিষয়টি যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই আমরা অবিলম্বে এটি কার্যকর দেখতে চাই। সোমবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ও এবং জাহিদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে, বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে, গণতন্ত্রকে, আমাদের অর্থনীতিকে, ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে, সবকিছুকেই তছনছ করেছিল বিগত ১৬ বছরের স্বৈরশাসক। একটি বৈষম্য এবং মারাত্মক ধরনের একটি ট্রমা সমস্ত বাংলাদেশের মানুষের ওপর তারা চাপিয়ে দিয়েছিল। এই অবস্থায় জুলাই এবং আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষের এই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক এবং ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ছিল। একটি ছিল সংস্কার, আরেকটি ছিল ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারা তিনটি কাজ কতটুকু করেছেন সেটা জাতির সামনে খুবই স্পষ্ট।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি দেয়ার জন্য গণভোট অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই মেনেই আমরা একমত হয়েছিলাম। যদিও বিএনপি এ ব্যাপারে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেছে। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সবাই একমত হয়েছে। জামায়াত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট দাবি করেছিল। কিন্তু পরে সরকার এবং সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠান হবে। সেই গণভোটসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছে এবং গণভোটে এই সংস্কার প্রস্তাব দুই তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে।
তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেটি ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যাতে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরশাসন, একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা না আসে, লুটপাটের কোনো সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, যে গণহত্যা যারা করেছে এই ধরনের শাসন যাতে আর ফিরে না আসে। এজন্যই মূলত এই মৌলিক বিষয়টি, সংস্কারটি গণভোটে যখন পাস হয়েছে তখন সবাই এর পক্ষেই ছিলেন।
নির্বাচনে আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করার জন্য কথা বলেছেন। বিএনপিসহ সবাই এ ব্যাপারে একমত ছিল এবং নির্বাচনের পরের দিন যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছিল সেখানেও গণভোটে পাস হয়েছে সংস্কার। এটা পর্যাক্রমে বাস্তবায়ন করবে। এই কমিটমেন্টও দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের যেদিন শপথ হয় সেদিন দুটো শপথ নেয়ার কথা। এটা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এটা আমরা একমত হয়েছিলাম। যেহেতু এই জাতীয় সংসদটি দুটো দায়িত্ব পালন করবে। একটি হচ্ছে- গণপরিষদের যেটি সংবিধান সংস্কারের বা সংবিধান সংশোধনের দায়িত্বটি পালন করবে। আরেকটি হচ্ছে তার নিয়মিত দায়িত্ব যেটি জাতীয় সংসদ হিসেবে।
কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে লক্ষ করলাম বিএনপি’র এমপিরা সেই শপথটা নিলেন না। সবশেষ আমরা দেখলাম যে, বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন হয়েছে গণভোটের ব্যাপারে। গণভোটটা অসাংবিধানিক এবং আরও কিছু বিষয় চেয়ে রিট করা হয়েছে। এর শুনানি সোমবার শেষ হয়েছে।
জাতিকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা জানানো উচিত উল্লেখ করে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই বিষয়টি একটি জাতীয় বিষয়, একটি রাজনৈতিক বিষয়। আমরা দীর্ঘ আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদকে সরিয়েছি। বাংলাদেশ যাতে আর ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে এজন্য আমরা এ প্রস্তাবগুলো সবাই সর্বসম্মতভাবেই বলা যায় দুই তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি ভোটে এটি পাস হয়েছে। এই অবস্থায় এটি এখন জাতীয় সংসদের বিষয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ১২ই মার্চ। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা এটা সংসদে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, এখন বিষয়টিকে আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যারাই চেষ্টা করছেন আমরা মনে করি সেটা সঠিক কাজ হচ্ছে নাকি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আহ্বান জানাতে চাই যে বিষয়টি হচ্ছে- জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যরা, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তারা যে দায়িত্বটি পালন করবেন। আমরা মনে করি সেই দায়িত্বটি তাদেরই পালন করতে দেয়া উচিত।
আদালতের ঘাড়ে বন্দুক নয়, অবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকর দেখতে চায় জামায়াত
স্টাফ রিপোর্টার
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
