ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে এশিয়ার সেরা মঞ্চে চীনের বিপক্ষে দুই গোলে হারলেও শিষ্যদের নিয়ে গর্ব করছেন পিটার বাটলার। আর চীনের কোচ অ্যান্থনি মিলেটিস মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের পারফরমেন্সে। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমার খেলায় সারপ্রাইজ হয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ার কোচ। চীনের কাছে বাংলাদেশের হারটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে ব্যবধানটা কি হবে সেদিকে নজর ছিল সকলের। আগের দিন এই কমব্যাংকের প্রেস কনফারেন্স রুমে বসেই বাস্তবতা মেনেই দর্শকদের মাঠে আসার অনুরোধ করেছিলেন বাংলাদেশের হেড কোচ পিটার বাটলার। তবে একটি কথা বলেছিলেন এই বৃটিশ কোচ। আর সেটি হলো শিষ্যদের ওপর আস্থা আছে, তারা হারলেও লড়াই করবে। মাঠে তাই করেছে আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। তাই তো হারের পরেও সংবাদ সম্মেলনে এসে চড়া হাসি পিটার বাটলারের মুখে। শুরুতে চীনকে অভিনন্দন জানিয়ে এই বৃটিশ কোচ বললেন, ‘রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকতে বা বলির পাঁঠা হতে আসিনি। আমি মেয়েদের খেলার আগে বলেছি নিজেদের সেরাটা দিতে। তোমরা যা দিতে পারবে, তা দাও। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। তোমরা যেমন, তেমনই থাকো এবং আমরা যা, সেটাই দেখাও। তাই করেছে মেয়েরা। আমি মেয়েদের নিয়ে গর্বিত। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অতিমাত্রায় ডিফেন্ডিং করে ৩-০ গোলে হেরেছে উজবেকিস্তান। পুরো ম্যাচে একটিও বলার মতো আক্রমণ করতে পারেনি উজবেক নারী দল। বাংলাদেশ সে পথে হাঁটেনি। হাই-লাইন ডিফেন্ডিং করে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলা খেলেছে। এত গোলেও সুযোগ তৈরি করেছিল বেশ কয়েকটি। এ নিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমরা এখানে এসে রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকতে এবং বলির পাঁঠা হতে আসিনি। আমি সেভাবে কোচিং করাই না। আমার দলও সেভাবে খেলুক তা আমি চাই না। আমার মনে হয় আজ (গতকাল) রাতে মেয়েরা দুর্দান্ত ছিল। সত্যিই কিছু ভালো মানের খেলোয়াড় এবং একটি শক্তিশালী বেঞ্চ সমৃদ্ধ একটি চমৎকার দলের বিরুদ্ধে দারুণ প্রচেষ্টা ছিল এটি। তাই, আমি মেয়েদের নিয়ে আনন্দিত।’ বছর পাঁচেক ধরে বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিত ছিলেন রূপনা চাকমা। ধরেই নেয়া হয়েছিল চীনের বিপক্ষে একাদশে থাকবেন এই ফুটবলার। চীনও রূপনা চাকমাকে ধরেই তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। যা ম্যাচ শেষে কোচের কথাতেও পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে। সেই রূপনাকে বাইরে রেখে মিলি আক্তারকে দিয়ে শুরুর একাদশ সাজান বাংলাদেশের এই বৃটিশ কোচ। এই পরিকল্পনাতেও শতভাগ সফল বাটলার। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন অভিষিক্ত এই গোলরক্ষক। এনিয়ে তিনি বলেন, ‘রূপনা খুব ভালো গোলরক্ষক। নিয়মিত ভাবেই ও খুব ভালো করছে। কিন্তু তার উচ্চতা কম। কোনো খাবার খাইয়ে আশা করতে পারি না যে, সে ঘুম থেকে উঠে ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়ে যাবে। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সবসময় একটি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখেছি। রূপনার খেলার কোনো জন্মগত অধিকার নেই। মিলিরও নেই। স্বর্ণারও নেই। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে গোলকিপিংয়ের ক্ষেত্রে সংগ্রাম করেছে। আমার মতে আজ রাতে মিলি অসাধারণ ছিল। সে কিছু ভুল করেছে, সে ভুল করবেই, তবে আমার মনে হয় সে সত্যিই ভালো করেছে এবং দলে নতুনত্ব আনার পেছনের কারণ এটিই ছিল। আমি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না। এদিকে পিটার বাটলারের এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়ে চীনের কোচ অ্যান্থনি মিলেটিস বলেন, ‘আমি খুব সারপ্রাইজ হয়েছি কোচের এই সিদ্ধান্তে। তার সিদ্ধান্তে সে সফল হয়েছে। ও খুব ভালো করেছে।’ বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়রা তার বিশেষ নজর কেড়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে চীনের কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশের কয়েকজন ইন্ডিভিজ্যুয়াল স্কিল ফুটবলার রয়েছে নাম্বার ৬ (মনিকা চাকমা), ৮ (মারিয়া মান্দা ) এবং ১৭ (ঋতুপর্ণা চাকমা) দারুণ খেলেছে। বাংলাদেশের তেমন চাপ ছিল না, চাপহীনভাবে ভালোই খেলেছে।’ স্কোরলাইন ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে চাইনিজ কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ ইয়াং টিম। চাপহীন থেকে ফ্রি খেলেছে। আমরা এ রকমই প্রত্যাশা করেছিলাম। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ এ রকমই হয়। আমরা জিতেছি, ক্লিনশট রয়েছে, এতে সন্তুষ্ট।’
বলির পাঁঠা হতে আসিনি বললেন বাটলার
ঋতুপর্ণা-মারিয়া মান্দাদের খেলায় সারপ্রাইজ চীনা কোচ
স্পোর্টস রিপোর্টার, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া থেকে)
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
