স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এশিয়ান কাপের লড়াই। সিডনিতে অফিস শেষ হয় বিকাল পাঁচটায়। এখানকার প্রবাসী বাঙালিরা চাইলে অফিস শেষ করে স্টেডিয়ামমুখী হতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে, কেউ অর্ধেক অফিস করে আবার কেউ ছুটি নিয়ে ওয়েস্টার্ন সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা চারেক আগে থেকেই হাজির হন। উৎসাহ জোগান মনিকা-মারিয়াদের। গ্যালারি ভর্তি দর্শকের চাপে রাখেন এই প্রবাসীরা। কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামের গা ঘেঁষে বিস্তৃত প্যারামাট্টা পার্ক। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট প্যারামাট্টা নদী। ছিমছাম স্টেডিয়ামের এক প্রান্তে বসেছে একটি সুবিন্যস্ত শপ। পাশেই মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছেন আয়োজকরা। যেখানে মুহূর্তের মধ্যে ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরলসহ পাঁচটি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়ে দিচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। যাদের রক্তে সুগার কিংবা কোলেস্টেরল বেশি পাওয়া যাচ্ছে, তাদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। এশিয়ান কাপ কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকরাও এই মেডিকেল ক্যাম্পের সুবিধা নিয়েছেন। সেভাবে ভিড় করতে দেখা গেছে দর্শকদের। তবে প্রবাসী বাঙালিদের এ সব নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। তারা ব্যস্ত ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ চিৎকারে। এদের একজন নাজমুল হোসেন। প্রায় ৩২ বছর ধরে এ শহরে থাকেন। লাল-সবুজের পতাকা হাতে ম্যাচ শুরুর প্রায় চার ঘণ্টা আগে প্যারামাট্টার এই স্টেডিয়ামে হাজির হন। ঘুরে ঘুরে অন্য বাঙালির সঙ্গে কথা বলেন। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে যখন বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করে তখন থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিই খেলা দেখার। সেপ্টেম্বরে যখন টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখনই টিকিট সংগ্রহ করি।’ মজা করে বুয়েটের এই ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘চায়না প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে। তারা যদি মানুষের মতো দেখতে রোবট মাঠে না নামায়, তাহলে আমরাই জিতবো।’ নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি না থাকলেও কড়াকড়ি ছিল স্টেডিয়াম আঙিনায়। পাশে এশিয়ান কাপের মতো বড় আসরের খেলা হচ্ছে, কিন্তু স্টেডিয়াম সংলগ্ন ওল্ড কিংস ওভাল গ্রাউন্ডে এক দল তরুণী ক্রিকেট খেলছে। গ্রাউন্ডের চারদিকে মানুষ হাঁটছে।
সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৫০ হাজারের অধিক। এদিন হাজার দুয়েকের অধিক প্রবাসী ছুটে এসেছেন আফঈদা-নবীরুনদের উৎসাহ জোগাতে। এক দম্পতি এসেছেন ছেলের বাংলাদেশের জার্সি পরে। স্টেডিয়ামে ঢুকতে ঢুকতে ওই দম্পতির একজন বলেন, ‘আমার অফিস ছিল পাঁচটা পর্যন্ত। চিন্তা করেছিলাম অফিস শেষ করে আসবো। কিন্তু আমার অফিসে মন বসছিল না। তাই হাফ অফিস করে ছেলের জার্সি পরে মাঠে চলে এসেছি।’ নারায়ণগঞ্জের রাজীব সরকার সিডনি কমনওয়েলথ ব্যাংকের কর্মকর্তা। অফিস শেষে পরিবার নিয়ে তিনিও হাজির হয়েছেন স্টেডিয়ামে। গ্যালারি মাতিয়ে রেখেছেন বাঙালিরা। ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ চিৎকারে মুখরিত ছিল কমনওয়েলথ ব্যাংকের গ্যালারি। নারী ফুটবলে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। এ পর্যন্ত নয়বার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে দেশটি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। আর এশিয়ার সেরা মঞ্চে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রবাসীরাও ভালো করে জানেন চীনের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা একেবারে অলৌকিক বাংলাদেশের জন্য। তাই তো খেলায় চীন নিয়ন্ত্রণ নিলেও দমে যায়নি গ্যালারিতে থাকা বাঙালি দর্শকরা।
গ্যালারিতে প্রবাসীদের লড়াই ছিল সমানতালে
স্পোর্টস রিপোর্টার, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
