প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড

অভিশপ্ত ‘চোকার’ তকমা মোচনের লড়াই

প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড

ফন্ট সাইজ:

ক্রিকেট বিশ্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের গল্পটা অনেকটা একই সুতোয় গাঁথা। শিরোপার খুব কাছে গিয়েও বারবার স্বপ্নভঙ্গ হওয়া যেন এই দুই দলেরই নিয়তি। তবে আজ কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনসে যখন তারা প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে, তখন একজনের সামনে থাকবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, আর অন্যজনের জন্য কেবলই আক্ষেপ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালিস্ট নির্ধারণী এই মহারণ শুরু হবে আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
২০২৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে এবার যেন তারা পণ করেই নেমেছে। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল এইডেন মার্করামের দল। গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার এইট্তটানা সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতে তারা এখন টগবগে আত্মবিশ্বাসী। ২০০৯ বা ২০১৪ সালের চেয়েও এবারের দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেক বেশি গোছানো এবং পূর্ণাঙ্গ দল মনে হচ্ছে। দলটির প্রধান কোচ শুকরি কনরাড বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই জানিয়েছেন, তারা ‘ফেবারিট’ তকমা উপভোগ করছেন। ব্যাটিংয়ে কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটনরা পাওয়ার-প্লেতে ঝড় তুলছেন। আর বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদার গতি ও মার্কো জানসেনের বাঁ-হাতি বাউন্স প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কোণঠাসা করে দিচ্ছে। আজকের ম্যাচে অধিনায়ক এইডেন মার্করামের সামনে ব্যক্তিগত দুটি বড় রেকর্ড। আর মাত্র ৫২ রান করলেই তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। এছাড়া ৩২ রান করতে পারলে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে এক বিশ্বকাপে ৩০০ রানের রেকর্ড গড়বেন তিনি। অন্যদিকে কিউই স্পিনার ইশ সোধি আর মাত্র ৩টি উইকেট পেলেই নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হবেন। নিউজিল্যান্ডের পথটা এবার সহজ ছিল না। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে পরাজয়ের পর রান রেটের হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তবে নক-আউট পর্বে নিউজিল্যান্ড সব সময় ভয়ংকর। যদিও গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হারের তিক্ত স্মৃতি আছে তাদের, তবুও আজ ইডেনের বড় মঞ্চে সেই হারের শোধ নিতে মরিয়া মিচেল স্যান্টনারের দল। ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেনের আগ্রাসন এবং রাচিন রবীন্দ্রর ছন্দ কিউইদের বড় পুঁজি। তবে পেসার ম্যাট হেনরির অনুপস্থিতি (পিতৃত্বকালীন ছুটি) তাদের কিছুটা ভোগাতে পারে।
টি-টোয়েন্টিতে এই দুই দল এখন পর্যন্ত ১৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ১২ বার জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৭ বার। পরিসংখ্যানের বিচারে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে থাকলেও বড় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড সব সময় অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ। ইডেনের মন্থর উইকেটে আজ স্পিনারদের ভূমিকা হতে পারে নির্ধারক। কেশব মহারাজ ও তাবরেজ শামসি বনাম মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধির লড়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আজ যে দল জিতবে, তারাই আগামী রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলবে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন-দক্ষিণ আফ্রিকা কি পারবে তাদের ‘চোকার’ অপবাদ ঘুচিয়ে ফাইনালে উঠতে, নাকি প্রোটিয়া দেয়াল ভেঙ্গে কিউইরা শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে?

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন