স্প্যানিশ লা লিগায় আগের ম্যাচের হারে শিরোপার দৌড়ে বড় ধাক্কা খায় রিয়াল মাদ্রিদ। সোমবার অল হোয়াইটদের সেই তেতো স্বাদ আরেকবার পাইয়ে দিলো গেটাফে। খাতা-কলমে মাঠের লড়াইয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে থাকলেও, কাজের কাজটা করতে পারেনি রিয়াল। ১-০ ব্যবধানে ১৮ বছর পর বার্নাব্যুয়ে জয় তুলে নিলো গেটাফে। শেষবার ২০০৮-এর ফেব্রুয়ারিতে এই মাঠে জয় পায় দলটি। এদিনের হারে শিরোপার দৌড়েও বড় আঘাত নেমে এলো প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের ওপর। ২৬ ম্যাচে ১৯ জয়, ৩ ড্র ও ৪ চারে দুইয়ে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ৬০। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে থাকলো বার্সেলোনা।
বার্নাব্যুতে জয়ের পর গর্বিত ও আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বললেন গেটাফে কোচ হোসে বোরদালাস। তিনি বলেন, ‘বার্নাব্যুয়ে জয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে।’ তিনি জানান, রিয়ালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফল হতে হলে দলের কৌশলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি ছিল, ‘ওদের আক্রমণ কতটা ভয়ংকর, আমরা জানতাম। তাই কমপ্যাক্ট ডিফেন্স ও দ্রুত প্রতি আক্রমণের পরিকল্পনা নিই। ছেলেরা তা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে।’ অন্যদিকে, ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ঝরে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। সুযোগও বেশি ছিল। তবে ফুটবলে প্রাপ্যতা নয়, ফলই আসল।’ ম্যাচজুড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখা স্বাগতিকরা গোলের দিকে ১৮টি শটের মধ্যে ৭টি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ৯টির মধ্যে ৩টি শট লক্ষ্যে রেখেই বাজিমাত গেটাফের। দলের হয়ে সাত-সাতটি সেভ দিয়ে জয়ের নায়ক সফরকারীদের স্প্যানিশ গোলকিপার ডেভিড সোরিয়া। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৩৯তম মিনিটে। জানুয়ারিতে ফরাসি ক্লাব ওলাপিক লিও থেকে থেকে ধারে আসা মার্টিন সাতরিয়ানো করেন জয়সূচক গোলটি। বক্সের প্রান্তে আলগা হয়ে পড়া বল পেয়ে দুর্দান্ত ভলিতে জাল কাঁপান তিনি। বাঁ দিকে পুরোটা ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি থিবো কর্তোয়া। শেষ পর্যন্ত সেই শটই ম্যাচের নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ায়। শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে রিয়াল। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি রেকর্ড শিরোপাধারীরা। ত্রয়োদশ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাই গোলকিপারের সামনে পৌঁছে গেলেও, সোরিয়ার তীক্ষ্ণ সেভে জাল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হন। ২৪তম মিনিটে আর্দা গুলেরের দৃষ্টিনন্দন দৌড়ের পর নেয়া শটও একহাতে প্রতিহত করেন ৩২ বছর বয়সী এ গোলকিপার। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম ও এদের মিলিটাওয়ের মতো তারকা ফুটবলাররা চোটের কারণে বাইরে থাকায় এদিন দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন আরবেলোয়া। শুরুর একাদশে সুযোগ পান ১৮ বছর বয়সী তিয়াগো পিতার্চ। তবে গেটাফের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা রিয়ালের সব পরিকল্পনাতেই পানি ঢেলে দেয়।
বিরতির পর মাঠে ফিরে দানি কারভাহাল, ডিন হুইসেন ও রদ্রিগো গোয়েসকে নামিয়েও ফল পায়নি স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে অ্যান্তোনিও রুডিগারের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। রদ্রিগোর একটি শটও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একেবারে শেষ দিকে বদলি নামা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। একই কারণে মাঠ ছাড়তে হয় গেটাফের আদ্রিয়ান লিসোকেও।
দুই দশক পর রিয়ালকে ‘লজ্জা’য় ফেললো গেটাফে
স্পোর্টস ডেস্ক
৪ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
