প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন প্রশাসক। সাক্ষাতে সিটি করপোরেশনের অর্থ সংকটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং গাজীপুরের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাতের পর ঢাকার দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাসে যেভাবে রাজস্ব খাত থেকে কালেকশন আসার কথা, সেইভাবে আসেনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর কম হয়েছে। আমরা এই মুহুর্তে অর্থ সংকট পড়েছি। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।
তিনি বলেন, আমরা উনার কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছি সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে, আমাদের কনসার্ন যে মিনিস্ট্রি, লোকাল গভার্মেন্ট মিনিস্ট্রি- সেই মিনিস্ট্রিকেও যাতে উনি বলেন, যাতে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে ও কাজে আমাদের সহযোগিতা করা হয়।
সালাম বলেন, ঢালাওভাবে তারা (বিগত প্রশাসক) যে সমস্ত ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে, সেটার ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি করপোরেশন কলাপস করবে। সেটার কোনভাবে করা যাবে না।
উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন করপোরেশনের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, করপোরেশন এখন ভঙ্গুর অবস্থায়। ফান্ড নেই, অথচ ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, সাবেক প্রশাসক যিনি ছিলেন- তিনি ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইল সই করে গেছেন, যেখানে বিল দিতে হবে। আসলে কোন টাকাই নেই।
তিনি বলেন, ২৫ কোটি টাকা আছে। রাজস্ব শাখা থেকে আমি যেটা জানতে পেরেছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতি মাসে স্যালারি আসে ১৩ কোটি টাকা। ১৩ কোটি টাকা থেকে থাকবে ১২ কোটি, বিচার-বিশ্লেষণ আপনারাই করবেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে করব?
মিল্টন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা হতাশ নই, এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। জনকল্যাণে যতটুক সেবা দেয়ার প্রয়োজন আছে, সেটা দেয়ার জন্য আমরা নিজেকে প্রস্তুত করব এবং জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে, সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করব।
দক্ষিণের প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথাটা হল একটাই যে, পরিচ্ছন্ন ঢাকা এবং সবুজায়ন ঢাকা এবং মশার উপদ্রুপ থেকে নগরবাসীকে রক্ষা, এই তিনটা বিষয়ের উপরে উনি জোর দিয়েছেন। সামনে যেহেতু বর্ষা আসতেছে এবং সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। এই কারণে মশাকে যেকোনোভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর ঢাকাকে ক্লিন করতে হবে, ঢাকা শহর যে একটা বর্জ্যের কারখানা হয়ে গিয়েছিলো। সেটা থেকে উত্তরন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সবাই মিলে আমরা চেষ্টা করছি যাতে অতি দ্রুত আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, একটা সুন্দর ব্যবস্থায় আমরা আনতে পারি। মশক নিধনে ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি। আমি ঢাকা শহর দক্ষিণে এক মাসের জন্য একটা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করেছি।

এ এইচ ভুঁইয়া
৩ মাস আগেঅর্থ ভান্ডার খালি করে গিয়েছে, বারো কুটি আছে ? সবাইকে ঈদ বোনাস দিয়ে দিন।