কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তার সঙ্গে কমিশনের অপর দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সাড়ে ৩টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান।
আবদুল মোমেন বলেন, আমরা তিনজন, এই কমিশনের তিন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পদত্যাগের বিশেষ কোনো কারণ নেই। একটি নতুন সরকার এসেছে, সেই সরকারেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার তার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয় আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন গঠন করবেন।
নিজেদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়িত্ব নিই। কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর যোগ দেন। এই সময়টুকু আমরা আমাদের সাধ্যমত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমাদের কাজের বিচার আপনারাই করবেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তনের হাওয়ায় দুদকের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়। তার আগ পর্যন্ত তিনি চুক্তিতে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার দুদিন আগে ১০ ডিসেম্বর অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদকে কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার ১৪তম দিনে তারা পদত্যাগ করলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে মোমেন বলেন, আমাদের এতদিন নখদাঁত ছিল কি ছিল না, সেটার বিচার করার মালিক আপনারা। আমরা যে সময় দায়িত্বে ছিলাম, সে সময় দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। পদত্যাগে কোনো রাজনৈতিক বার্তা যাচ্ছে কি নাসেই প্রশ্নে তিনি বলেন, একটা নতুন সরকার এসেছে, তাদের ম্যানিফেস্টো আছে, প্রত্যাশা আছে। সরকার তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবে। সেখানে ভিন্ন কিছু দেখছি না।

Andalib
৩ মাস আগেবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অপমানজনক বিদায় অন্যদের জন্য বার্তা। দুদকের কমিশনাররা সে বার্তাটি সঠিকভাবে উপলব্ধি করে অপমান থেকে নিজেদের বাঁচালেন। বিএনপি যদি এক বছর ক্ষমতায় থাকে, বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ফেরেশতা মনে করা শুরু করবে এবং তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে যাবে।