ইরানে থাকা মার্কিনিরা দুর্দশার শিকার

রয়টার্সের রিপোর্ট

ইরানে থাকা মার্কিনিরা দুর্দশার শিকার

ফন্ট সাইজ:

বন্দি অধিকারকর্মীদের মতে, ইরান বর্তমানে কমপক্ষে ছয়জন মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাকে আটক করে রেখেছে। এতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, তারা এবং আটকে পড়া হাজার হাজার মার্কিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারেন। আটক ব্যক্তিরা সম্ভবত হাজার হাজার দ্বৈত মার্কিন-ইরানি নাগরিক ও গ্রিনকার্ডধারীদের অন্তর্ভুক্ত। তারা গ্রেপ্তারের ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও ইরানে অবস্থান করছেন। ফোলি ফাউন্ডেশন নামের অধিকার সংগঠনের বোর্ড সদস্য রায়ান ফেহি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মার্কিনিদের ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এই শাসনের। আমার ধারণা, যে কোনো মার্কিনিই ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এফবিআইয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক এবং বর্তমানে গ্লোবাল রিচ অ্যাডভোকেসি গ্রুপের কর্মকর্তা কিয়েরান র‌্যামসি বলেন, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শত শত, এমনকি হাজার হাজার দ্বৈত নাগরিক সেখানে রয়েছেন। তাদের পারিবারিক সম্পর্ক এখনো ইরানে রয়েছে।
ইরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না। ফলে যারা ইরানি নাগরিকত্বও ধারণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্য দেশ কূটনৈতিক সুরক্ষা বা কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, ইরানে ঠিক কতজন মার্কিনি রয়েছেন, তা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে জানে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জিম্মি বিষয়ক প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ই-মেইল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, অন্যায়ভাবে আটক প্রত্যেক মার্কিনিকে নিরাপদে দেশে ফেরানোই তার লক্ষ্য এবং যারা মার্কিনিদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশনও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিদেশে অন্যায়ভাবে আটক বা জিম্মি মার্কিনিদের মুক্তি নিশ্চিত করাকে তার পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ৭০ জনের বেশি মার্কিনি মুক্তি পেয়েছেন। তবে শনিবার ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আটক মার্কিনিদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের ৫ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের অধীনে ইরানকে প্রথমবারের মতো অন্যায় আটককারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, তেহরান যদি জিম্মি নেয়া বন্ধ না করে এবং সব মার্কিনিকে মুক্তি না দেয়, তবে এ পদক্ষেপের ফলে ইরানে যাতায়াতে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং আরও কিছু অনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। কতজন মার্কিনি আটক আছেন, তা তিনি প্রকাশ করেননি।

অধিকারকর্মীরা এই পদক্ষেপকে ইরানের প্রতি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন, যাতে তারা আটক মার্কিনিদের ক্ষতি না করে। তবে হামলার কারণে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে এই বার্তা উপেক্ষিত হতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। র‌্যামসি বলেন, এ ধরনের সরাসরি সামরিক হামলা হলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন