মধ্যরাতে ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৬

মধ্যরাতে ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৬

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ৪ জন গুরুতর আহতসহ মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন। হলের বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছুটে আসেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্র দলের কর্মীদের দেখতে ছুটে গিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। উভয় পক্ষই একে অপরকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। থেমে থেমে দুই পক্ষই পরস্পরের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস ছাড়া করার শ্লোগান দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এই হামলার ঘটনার পর ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘ঢাকা পলিটেকনিকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। একদিকে খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত; অন্যদিকে ক্যাম্পাসগুলোতে চলছে ছাত্রলীগীয় কায়দায় হামলা ও দখলদারিত্ব। আর প্রশাসন বরাবরের মতোই সেই পুরোনো চাটুকার ভূমিকায় লিপ্ত!

সরকারকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই—অবিলম্বে নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলান। নইলে ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থান বিঘ্নিত করে পুনরায় দখলদারিত্ব ও সহিংসতা কায়েমের জন্য আপনাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’

গতকাল রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। কক্ষের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে। শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে রক্তের বদলা নেওয়া হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ছাত্রদলের রক্ত ঝরেছে। বিগত দেড় বছর প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মবের শিকার হয়েছে। আজও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের রক্ত ঝরল। অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর ছাড় দেওয়া হবে না।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন