প্রথম আলো
‘মধ্যপ্রাচ্যে সংকট: জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন, দুশ্চিন্তা বাংলাদেশেও’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে একদিকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে; অন্যদিকে সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশও। মূল্যবৃদ্ধি স্থায়ী হলে, সরবরাহে সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশেও ঘাটতি তৈরি হতে পারে, দাম বেড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এতে অনেকটা অচল হয়ে গেছে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ ইরানের হরমুজ প্রণালি। হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। অন্যদিকে ইরানের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের সবচেয়ে বড় শোধনাগার রাস তানুরা সতর্কতার অংশ হিসেবে বন্ধ করে দিয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানির পুরোটা আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি আসে বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়া দেশের গ্যাস চাহিদার ৩৫ শতাংশ পূরণ করে আমদানি করা এলএনজি, যার বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ ডলারের আশপাশে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি আমদানির খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের মাধ্যমে। এটি পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে অনেক জাহাজ অপেক্ষারত। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ গতকাল প্রণালি অতিক্রম করে।
কেপলারের বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোকে বলেন, ইরানের হুমকির কারণে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকি অনেক। সেই সঙ্গে বিমার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে।
এদিকে গত রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না-ও আসতে পারে।
সৌদির শোধনাগার
সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার ও টার্মিনাল থেকেই বছরে সাত থেকে আট লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড (এএলসি) আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এই অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধিত হয়ে দেশের বাজারে সরবরাহ হয়। সৌদি আরামকো সতর্কতামূলকভাবে রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ করায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিপিসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ মার্চের মধ্যে রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে বন্দরে রয়েছে এবং তেল ভরা বা লোডিং শুরুর অপেক্ষায়। তবে শোধনাগার বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে তেল জাহাজে তোলা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ কারণেই মূলত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাস তানুরা থেকে বাংলাদেশে তেল আনতে হলে জাহাজকে পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়ে হরমুজ প্রণালি পেরোতে হয়। সামরিক নজরদারি ও নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে নৌ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে রাস তানুরায় তেল লোডিং সম্পন্ন হলেও জাহাজ নির্ধারিত সময়ে হরমুজ পেরিয়ে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যাত্রা বিলম্বিত হলে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত অবস্থায়, যা হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বন্দর থেকে আমদানি করা হয়, যেখানে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করতে হয় না। সামগ্রিক সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি নেই, তবে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিকল্প উৎসে নজর
বিপিসি বলছে, গতকালের হিসাবে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩১৭ টন, যা দিয়ে ১৪-১৫ দিন চলতে পারে। তবে সোমবার দিবাগত রাতে ৩২ হাজার ১৯৬ টন ও আজ মঙ্গলবার ৩৩ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। পেট্রলের মজুত আছে ২১ হাজার ৭০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৭ দিন চলা সম্ভব। অকটেনের মজুত আছে ৩৪ হাজার ১৩৩ টন, যা প্রায় ৩১ দিনের চাহিদার সমান। ফার্নেস তেলের মজুত ৭৮ হাজার ২৭৮ টন। এই পরিমাণ তেল দিয়ে প্রায় দুই মাস চলা যাবে।
অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ কাঠামো ধারাবাহিক আমদানিনির্ভর। ফলে একাধিক চালান বিলম্বিত হলে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রভাব পড়বে। এখন বোরো মৌসুম চলছে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ চাহিদাও বাড়ছে।
বিপিসি সিঙ্গাপুর বাজারদরে তেল কেনে এবং প্ল্যাটসের পাঁচ দিনের গড় দামে মূল্য পরিশোধ করে। ফলে বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়। ডিজেল ও অকটেনের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়াবে। তবে জুন পর্যন্ত জাহাজভাড়ার প্রিমিয়াম নির্ধারিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজভাড়া বাড়বে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস তানুরার মতো কৌশলগত স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি—এই তিন চাপ একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় বিপিসির সামনে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধের বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প উৎস ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে বিদেশ থেকে এলএনজি থেকে আসছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে আমদানি বাড়িয়ে ১০৫ কোটি ঘনফুট করার কথা রয়েছে। আমদানি বাড়ানো না গেলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং তৈরি হতে পারে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমবে। এতে রান্নায়ও ভোগান্তি হতে পারে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, এ বছর ১১৫টি কার্গো (জাহাজ) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। এর বাইরে খোলাবাজার থেকে ৫৯টি কার্গো আসবে। এলএনজি বাজারে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম কাতার। দেশটি থেকে এলএনজি আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। এ ছাড়া ইরানের আক্রমণের শিকার হয়ে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। এতে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১২ মার্চ পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। তবে নতুন জাহাজ আসা ব্যাহত হলে এর পর থেকে সরবরাহ কমতে পারে। মার্চেই মোট ১১টি কার্গো আসার কথা, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে চলে এসেছে।
২০২২ সালেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এলএনজির দাম নাগালের বাইরে চলে যায়। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ৬০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ ৩৬ ডলার পর্যন্ত কিনলেও পরে আর পারেনি। ওই বছরের জুলাই থেকে টানা সাত মাস খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে দেশে গ্যাসের সংকট তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি দেখা দেয়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ঘোর বিপদের শঙ্কা আছে। বিভিন্ন দেশ আমদানির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে। দামও বাড়তে থাকবে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে খুব বেশি মজুত নেই। তাই দ্রুত নতুন উৎস খুঁজে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ইরান’। খবরে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর শোক এখনো কাটেনি ইরানের। দেশজুড়ে ধ্বংসস্তূপ। অন্তত ১৩১টি শহরে হামলার ক্ষত। স্কুল, হাসপাতাল-বাদ যাচ্ছে না কিছুই। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে তিন দিনে ৫ শতাধিক প্রাণহানি। এখনো বিভিন্ন শহরে সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠছে। আকাশে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গর্জন আর বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি। এতকিছুর পরও এতটুকু টলেনি ইরান। পিছু হটেনি একচুল। প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে দেশটি। শোক আর ক্ষোভ যেন একসঙ্গে জমাট বেঁধেছে তেহরানের আকাশে।
নেতৃত্বশূন্যতার ধাক্কা সামলে ইরান একযোগে অন্তত ১২টি দেশে হামলা চালিয়েছে। বাগদাদ থেকে জেরুজালেম, দুবাই থেকে দোহা-বহু শহরে বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। জেরুজালেমে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি হামলায় অন্তত ৭৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্টের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ১৩১টি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দঁড়িয়েছে ৫৫০ জনে। মারা গেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রীও। সবশেষ সোমবার একটি জিমে বোমা হামলায় ২০ নারী ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের বহুমাত্রিক বিস্তার আন্তর্জাতিক রাজনীতিকেও টেনে এনেছে সরাসরি যুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য অংশ নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে অস্ট্রেলিয়া স্পষ্ট করেছে, তারা ইরানে হামলায় যোগ দিচ্ছে না।
এদিকে তেহরান মাটির নিচে সুড়ঙ্গনির্ভর ড্রোনঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোটকে সক্রিয় করে ইরান কৌশলগত গভীরতা তৈরি করতে চাইছে। প্রতিশোধের এ দফায় সংঘাত আর কেবল দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রূপ নিচ্ছে বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার থেকে বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে খাইবার-৪ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: তেল আবিবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘খাইবার-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই হামলার পর থেকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখন অনিশ্চত। সোমবার প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের প্রতিবেদনেও এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
২৭ বছর পর মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সকালে তারা ইরান-কুয়েত সীমান্ত অঞ্চলে এফ-১৫সহ তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিমানবিধ্বস্ত হয়ে কুয়েতের ভূখণ্ডে পড়ার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। ২৭ বছরে এই প্রথম কোনো মার্কিন চালকসহ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। এর আগে ১৯৯৫ সালে কসোভো সংঘাত চলাকালে একটি মার্কিন এফ-১১৭ নাইটহক যুদ্ধবিমান যুগোস্লাভ বাহিনী ভূপাতিত করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
কালের কণ্ঠ
‘ঝুঁকিতে এলএনজি আমদানি, বিপন্ন হবে বিদ্যুৎ খাত’-এটি কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন ব্যাহত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতেও চাপ বাড়বে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসায় এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির নির্ভরতা কম। ফলে আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে আপাতত কোনো সংকট দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল সরবরাহে ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি থেকে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে মোট সরবরাহের বড় অংশই এখন আমদানিনির্ভর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনা প্রায় পুরো এলএনজি হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ২০১৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ।
পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ওমান থেকেও আমদানি শুরু হয়। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই আসে কাতার থেকে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেছেন, চলতি মাসে অন্তত ৯টি এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে ১-২টি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যেসব কার্গো ১৫ তারিখের মধ্যে আসার কথা, সেগুলো এরই মধ্যে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরো বলেন, চলতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ
এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এবং পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক ও স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি এলএনজি আমদানি ব্যাহত হয়, তাহলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাস সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গার্মেন্টস ও সিরামিক খাতের একাধিক উদ্যোক্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছেন না। এখন যদি গ্যাসের সরবরাহ আরো কমে যায় তাহলে শিল্পের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তারা জানান। শিল্পে গ্যাসের সংকট কাটাতে বিকল্প দেশগুলো থেকে এলএনজি আমদানির অনুরোধ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মব কালচার, প্রক্রিয়াগত সমস্যায় পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরছে না’। খবরে বলা হয়, দেশের প্রতিটি জেলায় একটি 'জিরো কমপ্লেইন (অভিযোগশূন্য) থানা' গড়ে তোলার কথা ভাবছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জিরো কমপ্লেইন থানার ধারণা, কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, সেসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বৈঠকে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না। হবে না কর্মসংস্থান। এ সময় 'মব কালচার' বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে পুলিশ নিজেদের ভাবমূর্তি ঊর্ধ্বমুখী করতে পারছে না বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে কেউ ডাক দিলে অনেক লোক রাস্তায় জড়ো হচ্ছে, মব হচ্ছে। যারা জড়ো হচ্ছে তারা কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মব কালচার বা এ ধরনের পরিস্থিতি হতো না। তাই বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে পুলিশের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রতিটি জেলার সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন আইজিপি। তিনি বলেছেন, একজন সার্কেল অফিসার ওই থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারক করবেন।
এ সময় আইজিপি আরও বলেন, প্রচলিত পুলিশিংয়ের বাইরে গিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে। থানায় যে ধরনেরই লোক আসুক, তারা যেন পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে না পারে সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। মানুষ কষ্ট নিয়ে থানায় এসে যাতে হাসিমুখে ফেরত যায়, এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের।
আইজিপি মনে করেন, জিরো কমপ্লেইন থানা গড়ে তোলা গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অপবাদ তা ধীরে ধীরে দূর হবে। জেলার একটি থানাকে এইভাবে গড়ে তোলা গেলে পুরো জেলায় তার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। উদাহরণ দিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, একসময় একজন হাফপ্যান্ট পরা পুলিশ এলাকায় গেলে সম্মান বা ভয়ে হোক, এলাকা ফাঁকা হয়ে যেত।
তিনি জানান, জিরো কমপ্লেইন থানায় মাসে দু-একদিন পুলিশ সুপার যাবেন। জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন। এক পর্যায়ে জিরো কমপ্লেইন থানা গড়ে তোলার ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে নিশ্চয়তা চান আইজিপি। পাশাপাশি ১২ থেকে ১৫টি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি। চাঞ্চল্যকর ঘটনা দ্রুতই পুলিশ সদরদপ্তরকে অবহিত করার কথা বলেছেন। অনেক সময় দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে বিলম্ব হয়। এটি যেন না হয়, সেটি স্মরণ করিয়ে দেন। এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর ঘটনার ব্যাপারে ন্যূনতম কম সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
ইত্তেফাক
‘যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরান যখন উপসাগরী দেশগুলোতে একের পর এক মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের শহরে হামলা চালায় তখন সরকারগুলোও চুপ ছিল। তারা যুদ্ধ এড়াতে নিন্দা ছাড়া আর কিছুই বলেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলছে, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকায় এখন হয়তো ছয়টি দেশ পালটা হামলা চালাতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোই নয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানিও মিত্র দেশগুলোর সমর্থনে ইরানে পালটা হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা বললেও গতকাল সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান। যদিও ইরাকের মতো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেইসঙ্গে ইরানি জনগণ এই ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে বলে আশা করছেন তিনি।
যুদ্ধে জড়াবে মধ্যপ্রাচ্য :পশ্চিম এশিয়ার আরো এক দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের বন্ধু গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা শুরু করে। লেবানন সরকার তাদের পদক্ষেপকে সমর্থন করেনি। তবে হিজবুল্লাহ ছাড় দিতে রাজি নয়। নেতানিয়াহুর বাহিনীও প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৩১ জন নিহত হয়েছে। গত শনিবার ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল এবং মার্কিন বাহিনী। প্রথম দফার হামলায় নিহত হন খামেনি। চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান খামেনির স্ত্রীও। রবিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। যৌথ বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে ইরানও পালটা পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায়।
বোমা ফেলা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতারের মতো দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। বুর্জ খলিফাও খালি করে দিতে হয়েছে। বোমা পড়েছে দুবাই বিমানবন্দরে। গতকাল সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এর আগের দিন বাহরাইন এবং জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। রবিবার উপসাগরীয় ছয় দেশ বৈঠকে বসে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘খেলাপির পাহাড়ে ব্যাংকিং খাত’। খবরে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি নতুন করে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, এক বছর আগে ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরে খেলাপি ঋণ টাকার অঙ্কে বেড়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা; আর শতকরা হিসেবে ৬১ দশমিক ১৬ ভাগ। তবে, গত সেপ্টেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। গত তিন মাসে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এরই সুবাদে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার কমে হয়েছে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার কমে ৩৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে আসা বাস্তব অর্থে পরিস্থিতির উন্নতি নির্দেশ করে না; বরং প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঋণ নবায়নের কারণে সাময়িকভাবে এই হার কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মন্দ ঋণের হার, যা ডিসেম্বরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ শতাংশে, এক বছর আগে একই সময়ে যা ছিল ৮৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, খেলাপি ঋণের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের সঙ্কট, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে অনেক ঋণগ্রহীতা তাদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। শিল্প ও বাণিজ্য খাতের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও চাপে পড়েছেন। ফলে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না হওয়ায় খেলাপির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
যদিও ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকারদের মতে এটি প্রকৃত অর্থে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল ও নবায়নের মাধ্যমে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখানো হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট কিছুটা স্বস্তি পেলেও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে আগের জায়গাতেই। পুনঃতফসিল করা ঋণের বড় অংশই ভবিষ্যতে আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মন্দ ঋণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া। সাধারণত কোনো ঋণ দীর্ঘ সময় ধরে অনাদায়ী থাকলে সেটি মন্দ ঋণে পরিণত হয় এবং তা আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম থাকে। ডিসেম্বর শেষে এই মন্দ ঋণের হার ৯৪ শতাংশে পৌঁছানো মানে খেলাপি ঋণের বেশির ভাগই এখন কার্যত আদায় অযোগ্য পর্যায়ে চলে গেছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশ থেকে ভবিষ্যতে আর অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বণিক বার্তা
‘ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য, নিহত ৬ শতাধিক’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যার ফলে যুদ্ধের পরিধি একযোগে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবসহ পুরো আরব উপসাগরে বিস্তৃত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার বেশির ভাগই ইরানে। যুদ্ধের ভয়াবহতা আঘাত হেনেছে বিশ্বের জ্বালানি হৃৎপিণ্ডকে। পরিস্থিতিকে আরো অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে তেহরানের বিস্ফোরক দাবি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর প্রভাবশালী এলিট ফোর্স আইআরজিসি এখন আর সরকারি কমান্ডে নেই। তারা কার্যত ‘স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে’ হামলা পরিচালনা করছে। সংঘাতের এ নতুন মাত্রায় কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপতিত হওয়ার ঘটনা চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুটো ইরানি বোমারু বিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে কাতার। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ অভিযান অন্তত চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং প্রয়োজনে ইরানে স্থল অভিযানের বিষয়টিও তিনি নাকচ করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি মধ্যপ্রাচ্যকে অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সংঘাতের তৃতীয় দিন গতকাল দিনভর ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরমাণু স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সিরিয়ায় একযোগে সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরো টালমাটাল করে দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাবারির বলেছেন, ‘আমেরিকানরা তাদের অধিকাংশ বিমান সাইপ্রাসে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা সেখানেও বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করব, যাতে সেখান থেকেও তাদের চলে যেতে বাধ্য করা যায়।’ যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধে যোগ না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোগুলোতে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার জন্য নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরান ‘সবাইকে পুড়িয়ে দেয়ার’ যে নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই এ কৌশলগত পদক্ষেপ। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের হামলা থামানো না গেলে যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে জার্মানিও। তবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেছেন, জার্মান সরকার এ হামলায় অংশ নিচ্ছে না, কিন্তু প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সময় লাগবে এবং এ অভিযান অন্তত চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে সামনে আরো বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে এখনো ‘কঠোর আঘাত’ করেনি। বড় হামলা এখনো বাকি। শিগগিরই ‘মূল আক্রমণ’ করা হবে।
ইরানে হামলার পর গতকালই প্রথমবার সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা, তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন রুখে দেয়া।’ তিনি ইরানে কোনো ধরনের জাতি গঠন বা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও অভিযান রাতারাতি শেষ হবে না বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও বলেছেন, এ অভিযান কয়েকদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রয়টার্স জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি একটি অভিযানের পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার’। খবরে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকার কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করা, কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ এবং খাল খননের কর্মপরিকল্পনা তৈরির মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এটি কেবল সূচনা। জনগণকে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকারই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান গত শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের যে ইশতেহার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব দিয়েছেন, তার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের জন্য এটিই হচ্ছে সঠিক পদক্ষেপ। আমরা জনগণের কল্যাণে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাব।’
বিএনপি নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়ার ঘোষণা আসে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ। এর সুফল পাবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
বিএনপির এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’। এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুতই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে ১০ মার্চ। এদিন বগুড়ায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পৃথকভাবে এ নিয়ে কথা বলেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যথাযথ তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি হয়েছে।
ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষি খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সহজ শর্তে সার, বীজ, সেচ-সহায়তা ও প্রণোদনা পাবেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা এবং সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
দেশ রূপান্তর
‘লড়াইয়ে মরিয়া ইরান’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুগপৎ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে দেশটির পাল্টা হামলায় পুরো টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সংকটের তৃতীয় দিন গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান থেকে উল্টো প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি পরিষ্কার বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ তার দেশ নিচ্ছে না।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এমন বাগ্বিতন্ডার মধ্যে চলমান গতকাল ইসরায়েলের তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও হাইফা বন্দরে দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। কাতার, বাহরাইন ও দুবাইয়ে গতকাল নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। সাইপ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে।
খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে চালানো ইরানের টানা মরিয়া এমন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, অঞ্চলটির বাইরেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ইরানকে শুরুতে একা মনে হলেও বৈশ্বিক রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় মার্কিনিদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা গতকাল দিয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।
