আহলান-সাহলান মাহে রমজান শ্রমিককে কষ্ট নয়, মর্যাদা দিন

ফন্ট সাইজ:

মাহে রমজানে আপনার প্রতিষ্ঠানে হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে যে মানুষগুলো আপনাকে এগিয়ে নিলো, দিনশেষে মালিকপক্ষ তাদেরই পিঠে ছুরি মারেন। এমন অবস্থা দেখা যায় ঈদের আগে। কারখানার সামনে আন্দোলন। বকেয়া আদায়সহ বোনাসের দাবি। তারা মালিকদেরই ভাই। মালিকপক্ষের কাজ করে ঘাম ঝরায় তারা, আবার সেই তাদের ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে কাঁদে তাদের প্রাণ।
হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ্ তাদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং যার ভাইকে তার অধীন করেছেন সে যেন তাকে তাই খাওয়ায় যা সে খায়, সে কাপড় পরিধান করায়, যা সে পরিধান করে। তাকে সামর্থ্যরে অধিক কোনো কাজের দায়িত্ব দেবে না। যদি এমনটা করতেই হয়, তাহলে সে যেন তাকে সাহায্য করে।’ সহিহ্ বোখারী: ৫৬১৭
শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকেরই। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মালিকানাধীন (অধীন) ব্যক্তির জন্য খাবার ও কাপড়ের অধিকার রয়েছে।’Ñসহিহ্ মুসলিম: ১৬৬২
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আমাদের কর্মী নিযুক্ত হয়েছে সে যেন (প্রতিষ্ঠানের খরচে) একজন স্ত্রী সংগ্রহ করে, সেবক না থাকলে সে যেন একজন সেবক খাদেম সংগ্রহ করে এবং বাসস্থান না থাকলে সে যেন একটি বাসস্থান সংগ্রহ করে। যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করবে সে প্রতারক বা চোর গণ্য হবে।’ -সুনানে আবু দাউদ: ২৯৪৫
বেতন ও পারিশ্রমিক কর্মজীবীর অধিকার। ইসলাম দ্রুততম সময়ে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ ইব্নে মাজাহ্: ২৪৪৩০
অন্য হাদিসে পারিশ্রমিক ও প্রাপ্য অধিকার নিয়ে টালবাহানাকে ‘অবিচার’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। নবী কারীম (সা.) বলেন, ‘ধনী ব্যক্তির টালবাহানা অবিচার।’ সহিহ্ বোখারী: ২২৮৭
অর্থাৎ সামর্থ্য থাকার পরও মানুষের প্রাপ্য ও অধিকার প্রদানে টালবাহানা করা অন্যায়। আর ঠুনকো অজুহাতে বেতন-ভাতা ও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ভয়ঙ্কর অপরাধ। নবী কারীম (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিপক্ষে থাকবো। ... আর একজন সে যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার পর তা থেকে কাজ বুঝে নিয়েছে অথচ তার প্রাপ্য দেয়নি।’ সহিহ্ বোখারী: ২২২৭
শ্রমিক ঠকানো ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম পাপ, বরং ইসলামের নির্দেশনা হলো- শ্রমিক তার প্রাপ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও মালিক তাকে প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবে। নবী কারীম (সা.) এই ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না।’Ñইব্নে মাজাহ: ২৪২৬


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন