যে সমঝোতার গুঞ্জন ছিল তা বাস্তবে রূপ নিলো। বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা আদালত বয়কট প্রত্যাহার করে আদালতে ফিরলে একটি সমঝোতার আভাস মেলে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার জামিন মঞ্জুর করা হয় কারাগারে থাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হওয়া বাকি ১০ জনের। এক আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে দ্রুত বিচার আদালতে জামিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম রাসেল।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেনÑ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।
আদালত সূত্র জানায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদারের দায়ের করা মামলায় ১২ জন আইনজীবীর জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২০০ টাকার মুচলেকায় ১১ জনকে জামিন দেয়া হলেও ৬ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান সাঈদের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী কে এম জুবায়ের বলেন, আদালত মামলার নথি ও যুক্তি বিশ্লেষণ করে ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। সোমবার অন্য আসামিরা হাজিরা দিয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত একজন ছাড়া বাকিদের জামিন দেন।
গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনূসের জামিনের প্রতিবাদে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী বিক্ষোভে জড়ান। গ্রেপ্তার করা হয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সাদিকুর রহমান লিংকনকে। এদিনই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদার দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। এতে ১২ জনকে আসামি করা হয়। সাদিকুর রহমান লিংকনকে করা হয় প্রধান আসামি।
ওই ঘটনার জেরে টানা তিনদিন আদালতের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সমস্যা সমাধানে পর্দার আড়ালে চলে দফায় দফায় মিটিং। চেষ্টা করা হয় এটা সমঝোতার। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা বয়কট প্রত্যাহার করে বিচারিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর গতকাল সোমবার জামিন পান ১২ আসামির ১১ জন।
এজলাস ভাঙচুর মামলা
জামিন পেলেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ বিএনপিপন্থি ১১ আইনজীবী
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে
৩ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
