শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

কাঠগড়ায় সাতক্ষীরার ২৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ফন্ট সাইজ:

দেশ জুড়ে শিক্ষা খাতে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র সামনে এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। জালিয়াতি, ভুয়া নিয়োগ ও সরাসরি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আলোচিত এই তালিকায় সাতক্ষীরা জেলার ২৫টি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার নাম উঠে এসেছে। রোববার ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ১লা জুলাই থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ তদন্তে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। তদন্তে জাল সনদ, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ, এমপিওভুক্তিতে কারসাজি এবং উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের বিষয় উঠে আসে। ডিআইএ মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা ফেরত নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করেছে। ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর মো. ইদ্রিস আলী জানান, ছয় মাস ধরে সরজমিন তদন্ত চালিয়ে শিক্ষকদের নিবন্ধন ও বিএডসহ বিভিন্ন সনদ যাচাই করা হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার ছয় উপজেলার ২৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কলারোয়ায় ১০টি, সদর উপজেলায় ৬টি, কালীগঞ্জে ৫টি, তালায় ২টি এবং দেবহাটা ও শ্যামনগরে একটি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে সেগুলো হলো উলুডাঙ্গা ওসমানীয়া দাখিল মাদ্রাসা, চন্দনপুর দাখিল মাদ্রাসা, কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া আলিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, কাজীরহাট কলেজ, কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, বাঁটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রামকৃষ্ণ সৈয়দ কামাল বখত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ আরও বেশ কিছু মাদ্রাসা, কলেজ ও বিদ্যালয় রয়েছে। ডিআইএ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এখন শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দোষ প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিত, চাকরিচ্যুতি কিংবা ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাতক্ষীরার সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন