জোড়া গোলে মায়ামিকে জিতিয়ে মাইলফলকের সামনে মেসি

জোড়া গোলে মায়ামিকে জিতিয়ে মাইলফলকের সামনে মেসি

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) দ্বিতীয় ম্যাচেও হারের শঙ্কায় পড়ে যায় ইন্টার মায়ামি। অরল্যান্ডো সিটির মাঠে স্রেফ ২৫ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। তবে মাঠে যে তখনও লিওনেল মেসি আছেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকার জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জয় নিয়েই ফেরে মায়ামি। ৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে স্রেফ ২ গোল দূরে তিনি। সব মিলিয়ে মেসির ক্যারিয়ার গোল এখন ৮৯৮টি।
ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের মূল কৃতিত্ব সাবেক সতীর্থ ও বর্তমান শিষ্য মেসিকে দিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বলেন, ‘সে খেলাটির সর্বকালের সেরা ফুটবলার। সে একজন নেতাও এবং নেতা হিসেবে সে বাকিদের অনুপ্রাণিত করে। তবে কখনও কখনও তার নিজেরও প্রেরণার দরকার পড়ে।’ মেসির বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের সাবেক এই সতীর্থ আরও বলেন, ‘আজ যখন সে (বল নিয়ে) সামনে এগোচ্ছিল, তখন তার আক্রমণের বিকল্প অনেক বেশি ছিল। যখন সুযোগ তৈরি হয়, তখন অন্য যে কারও চেয়ে সে বেশি সুযোগ তৈরি করে। এ কারণেই আমরা ম্যাচটি ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।’
অরল্যান্ডোর মাঠে আরেকটি কারণেও মায়ামির গতকালকের জয়টি বিশেষ কিছু। এই ‘ফ্লোরিডা ডার্বি’তে ১০ অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের প্রথম জয় এটি। এর আগে ৯ বারের সফরে জয়ের মালা পড়তে পারেনি তারা। এদিনও তেমন কিছুর আভাস দিয়ে বিরতির আগেই ২-০ এগিয়ে যায় অরল্যান্ডো। ম্যাচের অষ্টাদশ ও ২৪তম মিনিটে তাদের হয়ে গোল করেন যথাক্রমে মার্কো পাসালিক ও মার্টিন ওহেদা। দলকে ম্যাচে ফেরাতে বিরতির পরপর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন মায়ামি বস। প্রথম মিনিটেই ডিফেন্ডার নোয়াহ অ্যালেনকে বসিয়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মাতেও সিলভেত্তিকে মাঠে নামান মাসচেরানো। কোচের ভরসার প্রতিদান দিতে সময় নেননি তিনি। মাঠে আসার তিন মিনিটের মধ্যেই গোল ব্যবধান কমিয়ে দেন এ আর্জেন্টাইন তরুণ। ২০ বছর বয়সী সিলভেত্তি ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে জাল খুঁজে নেন। মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে গত বছরই ফ্লোরিডায় উড়ে আসা এ লেফট উইঙ্গারের পেশাদার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল এটি।
৫৭তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। এ গোলটি ছিল দেখার মতো। সতীর্থদের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করতে করতে বক্সের ভেতরে ঢুকে যান মায়ামি অধিনায়ক। এক পর্যায়ে মাটিতে পরেও যান তিনি। এরপর কখন উঠে দাঁড়ালেন আর কখন বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নিলেন, তা কেবল তৃপ্তিভরে অবলোকন করার মতো ব্যাপার। সামনে থাকা প্রতিপক্ষের সাত-সাতজন খেলোয়াড়ের তাকিয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না। গোলকিপারও বাঁ দিকে পুরোটা ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পাননি। ২-২ গোলে সমতার পর আরও তেতে ওঠে সফরকারীরা। ৮৫তম মিনিটে মায়ামিকে এগিয়ে নেন ভেনেজুয়েলিয়ান মিডফিল্ডার তালেসকো সেগোভিয়া। সেখানেও অবদান রাখেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। এর মিনিট তিনেক পর মেসিকে পেছন থেকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্বাগতিক ডিফেন্ডার কলিন গাসকি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সেই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকেই লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। চারজনের মানবদেয়ালের পাশ দিয়ে ডান প্রান্তের একদম কোনা খুঁজে নেন তিনি। বলে হাত ছোঁয়ালেও, তা ফেরাতে পারেননি অরল্যান্ডো গোলকিপার।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন