যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে তিন দিন ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কমপক্ষে ১১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়নের অপেক্ষায় আটকে আছে। শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। এরপর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে যাবে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ ও ইসরাইল লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হামলার পর পুরো অঞ্চলে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে। এ খবর দিয়ে অনলাইন জিও নিউজ বলছে, মুলতান বিমানবন্দরে একটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট তিন দিন ধরে উড্ডয়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
সিয়ালকোট বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত আরও দুটি এয়ারলাইন্সের বিমানও মাটিতে আটকে আছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। ফলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে ওভার ফ্লাইট কয়েকগুণ বেড়েছে।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ওপর দিয়ে যাওয়া একাধিক রুট এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানপথগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছে। রবিবারও বৈশ্বিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ছিল। চলমান বিমান হামলার কারণে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় বিমানবন্দরগুলো বন্ধ। দুবাই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টগুলোর একটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি এবং কাতারের দোহাসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট বিমানবন্দরগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ। কারণ ওই অঞ্চলের অধিকাংশ আকাশসীমা অনিশ্চয়তার মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বিমানবন্দর বন্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুবাই ও দোহা পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইট সংযোগ স্থাপন করে। এই পয়েন্টগুলো অচল হয়ে পড়ায় বহু বিমান ও ক্রু নির্ধারিত অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন। ফলে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইন্সের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বন্ধ বা সীমিত আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করেছে। এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইরান ও ইরাকের আকাশপথ বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন সেই রুটও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর যোগাযোগ পরিচালক ইয়ান পেচেনিক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলোকে আরও সংকীর্ণ করিডোর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাও অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।
