অদ্ভুত ঘটনা। ক’দিন ধরেই ঘটছিল সিলেটে। হঠাৎ উদয় হয় সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা। ছিনতাই করে। এরপর পালিয়ে যায়। কেউ খুঁজে পায় না। পুলিশেরও গলদঘর্ম অবস্থা। গেল কয়েকদিন নগরের বন্দরবাজার, ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়েতে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ খবরে পুলিশ নজরদারি শুরু করে। রোববার ভোররাতে নগরের চিহ্নিত আস্তানা ধোপাদিঘীরপাড় ও বন্দরবাজারে নজরদারি চালায়। ওই এলাকায় হঠাৎ অভিযান শুরু করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের অভিযানের মুহূর্তে হাওয়া হয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পুলিশ খুঁজতে শুরু করে তাদের। খুঁজতে খুঁজতে গেল ড্রেনের কাছাকাছি। বড় ড্রেন। শুকনো অবস্থায় রয়েছে। ভেতরে লাইট দিতে দেখা গেল মানুষের উপস্থিতি। পুলিশ ওই ড্রেনের ভেতর থেকে একেক করে বের করে আনলো ৫ ছিনতাইকারীকে। ড্রেনের ভেতরেই ওদের আস্তানা। বিছানা সহ অবস্থান করে তারা। গড়ে তুলেছে মাদক সেবনের আস্তানা। এমন ঘটনায় সবাই হতবাক। পুলিশ জানায়, ধোপাদিঘীর পাড়ের একদিকে রয়েছে ড্রেনের অংশের খোলা মুখ। আর অপর মুখ মেট্রো হোটেলের পাশে। বর্ষা মৌসুম এলে ড্রেনে পানি থাকে। আর শুষ্ক মৌসুম হওয়ার কারণে ড্রেনের ভেতর শুকনো। আর এই সুযোগে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীরা অংশ নিয়েছে ওখানে। ওখান থেকে ৫ জন গ্রেপ্তার হলেও তাদের সিন্ডিকেট আরও বড়। পুলিশ ড্রেনের বাইরে থেকে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সব মিলিয়ে ওই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে। সিলেট নগরের সুবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শিপলু চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘ড্রেনের ভেতরে ছিনতাই সহ অপরাধ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ড্রেনের ভেতরে মিলেছে মাদক সেবনের সরঞ্জামও।’ তিনি বলেন- ‘গেল কয়েকদিন ধরে ওয়াকওয়ের ভেতর ও মেট্রো হোটেলের ওখান থেকে নানা অভিযোগ আসছিল। কিন্তু ছিনতাইকারী কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে গতকাল ভোররাতে ড্রেনের ভেতরেই তাদের আস্তানা চিহ্নিত করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারের পর অপরাধীরা নিজেও স্বীকার করেছে ওই আস্তানায় তারা কয়েক মাস ধরে অবস্থান করছে। ওখানেই তারা বিছানা নিয়ে ঘুমায়। ঘটনা ঘটিয়ে ওখানে চলে যায়।’ এদিকে, শুধু ধোপাদিঘীর পাড়ই নয়, নগরের কয়েকটি এলাকায় এ ধরনের আস্তানা গড়ে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বারুতখানায় রয়েছে এ ধরনের একটি ড্রেন। কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিঁচকে এসব ছিনতাইকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে ড্রেনের ভেতরেই অবস্থান নেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- ড্রেনের ভেতরের এমন অংশে ওরা অবস্থান নেয় বাইরে থেকে তা বুঝার উপায় নেই ওখানে কেউ অবস্থান করছে। তালতলা, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, পশ্চিম কাজিরবাজার, আম্বরখানা, দরগাহ গেট, ফাজিলচিস্ত, মদিনা মার্কেট সহ কয়েকটি এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেল কয়েক মাসে সিলেট নগরে চিহ্নিত অপরাধী ও ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নামে। এ সময় গ্রেপ্তার থেকে রেহাই পেতে অপরাধীরা নতুন নতুন আস্তানায় চলে যায়। এর মধ্যে একটি আস্তানা হচ্ছে নগরের ড্রেনের ভেতরে।
চাকু, দা, লোহার রড উদ্ধার: সিলেট নগরের অপরাধ আস্তানা থেকে পুলিশ চাকু, লোহার রড ও দা উদ্ধার করেছে। এর সংখ্যাও কম নয়। একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের হাতে যা যা থাকা দরকার সবই তাদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ইমন আহমদ, ইমন, শাহান আহমদ, ইয়াসিন, রুবেল, হৃদয় আহমদ, শওকত মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সিলেটের ড্রেনে অপরাধ আস্তানা
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
২ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
