পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় আলোচিত দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রী জামিলা আক্তার সেতু (১৫) এবং তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসায় তার দাদি সুফিয়া বেগমকে (৬৫) নৃশংসভাবে হত্যা করে আত্মীয় শরিফুল ইসলাম (৩০)। রোববার বিকাল সাড়ে চারটায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।
ঘটনার পটভূমি: স্বামীর মৃত্যুর পর সুফিয়া বেগম তার ছেলে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বসবাস করতেন। জয়নালের স্ত্রী না থাকায় তার মেয়ে জামিলা আক্তার সেতু দাদির সঙ্গেই থাকতো। জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা ঢাকায় কর্মরত থাকায় বাড়িতে মূলত দাদি ও নাতনি একসঙ্গেই থাকতেন। পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়সূত্রে যাতায়াতের সুবাদে শরিফুল ইসলামের জামিলার প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে। সে একাধিকবার কু-প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জামিলা তা প্রত্যাখ্যান করে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড: গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শরিফুল গোপনে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে দাদি সুফিয়া বেগম তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরিফুল কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘরের ভেতরে গিয়ে জামিলাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। তখন শরিফুল বাঁশের খাটিয়া ও হাতুড়ি দিয়ে জামিলার মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। বাড়ির পেছনের পুকুরপাড় দিয়ে নেয়ার সময় দু’জনেই পুকুরে পড়ে যায়। সেখান থেকে জামিলাকে টেনে গমক্ষেত ও সরিষা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় সে। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে জামিলা আবার চিৎকার করলে শরিফুল পুনরায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এরপর সরিষা ক্ষেতের পাশে জামিলাকে ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সেখানেই জামিলার মৃত্যু হয়।
লাশ উদ্ধার ও মামলা: পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির প্রবেশমুখ থেকে সুফিয়া বেগমের মরদেহ এবং বাড়ির পেছনের গমক্ষেতের আইল থেকে জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম তদন্তে নামে। স্থানীয় সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার বিকালে শরিফুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সন্দেহভাজন হিসাবে আটক অপর একজন, রাব্বি মণ্ডলকে তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়। দুপুরে শরিফুলের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের খাটিয়া, একটি কাঠের বাটাম এবং তার ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান, মামলায় শরিফুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জামিলাকে হত্যা বাধা দেয়ায় দাদিকেও হত্যা
স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে
২ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
