ঈদকে সামনে রেখে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে সক্রিয় ইয়াবা কারবারিরা

ফন্ট সাইজ:

ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার আবারো বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন পাচার কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিরা রুট পরিবর্তন করে নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি সড়ক ও দুর্গম পয়েন্ট ব্যবহার করে কোটি টাকার ইয়াবার চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ হয়ে উখিয়ার বালুখালী, বাইশফাঁড়ি, শৈলরডেবা, রত্নাপালং, ভালুকিয়া, হলদিয়াপালং ও পাতাবাড়ী সড়ক ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। এসব রুট দিয়ে চালান পৌঁছাচ্ছে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। পরিস্থিতি বুঝে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে পরে মজুত করা ইয়াবা দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। সীমান্তের একাধিক সূত্র দাবি করেছে- টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, দমদমিয়া, লেদা, রঙ্গিখালী, উলুবনিয়া, শাপলাপুর, সাতঘরিয়াপাড়া, উখিয়ার আমতলী, দরগা বিল, ডেইল পাড়া, পালংখালী, আনজিমান পাড়া, মরিচ্যা, রেজুখাল এবং নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রুসহ অন্তত ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা প্রবেশ করছে।
শুধু স্থলপথ নয়, সাগরপথেও মাছ ধরার ট্রলার, কাভার্ড ভ্যান, ত্রাণবাহী ও জরুরি পণ্যবাহী যান ব্যবহার করে চালান আনা হচ্ছে। কখনো যানবাহনের ইঞ্জিন কভার, কখনো দেহের গোপন স্থানে বহন করে ইয়াবা পাচারের তথ্যও মিলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। বড় কোনো ইয়াবা কারবারি আটকের সাম্প্রতিক খবরও নেই। আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন কথিত ‘ইয়াবা গডফাদার’ জামিনে বের হয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা। ‘ইয়াবার গেটওয়ে’ হিসেবে পরিচিত টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় ৪০টি কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার বড় অংশ এ সীমান্ত দিয়েই ঢুকছে বলে জানা গেছে। নিয়মিত বড় চালান পাঠাচ্ছে ইকবাল নামে এক কারবারি- এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযুক্ত ইকবাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বর্তমানে এলাকায় থাকেন না; পরিবার নিয়ে কক্সবাজার শহরে বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এখন এলাকায় থাকা দায় হয়ে গেছে। চারপাশে ইয়াবার ভয়াল ছায়া। নতুন প্রজন্ম ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্র ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ সিন্ডিকেট দমন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন