পাকিস্তান সিরিজে প্রস্তুতির ছক টাইগারদের

পাকিস্তান সিরিজে প্রস্তুতির ছক টাইগারদের

ফন্ট সাইজ:

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে এখন প্রস্তুতির চূড়ান্ত ছক আঁকা হচ্ছে মিরপুরে। আগামী ৯ই মার্চ পাকিস্তান দল ঢাকায় পা রাখবে। এরপর ১১, ১৩ ও ১৫ই মার্চ মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দিবা-রাত্রির ম্যাচগুলো। এই সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিসিবি বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল)- এর ওয়ানডে ফরম্যাটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামীকাল বিসিএল-এর মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটিই মূলত হবে নির্বাচকদের জন্য দল গঠনের মূল মানদণ্ড। ফাইনাল শেষে ৬ই মার্চ থেকে শুরু হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। তার ঠিক পরদিন মিরপুরে আয়োজিত হবে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে বিসিএল-এর সেরা পারফর্মাররা দুই দলে বিভক্ত হয়ে লড়বেন।

প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘টিম কবে দেয়া হবে, তা মূলত বোর্ডের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে। বিসিএল ফাইনাল শেষ হওয়ার পর ৭ তারিখের আগে যেকোনো সময় আমরা দল ঘোষণা করতে পারি। ৭ তারিখে প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এই ম্যাচে বিসিএল-এর ভালো পারফর্মার ও সম্ভাব্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দুটি দল সাজানো হচ্ছে। নকশা পাওয়ার পর আমরা টিমটি ফাইন টিউনিং করে দেব।’ এই প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে মূলত ক্রিকেটারদের বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেস যাচাই করতে চায় বোর্ড। বিসিএল-এ যারা আলো ছড়িয়েছেন, তাদের জন্য এটি জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার বড় সুযোগ। মিরপুরের উইকেটে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে খেলা শুরু হবে। এই সময়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি ম্যাচের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ড মনে করছে, বিসিএল-এর পারফরম্যান্স এবং এই প্রস্তুতি ম্যাচের ওপর ভিত্তি করেই সেরা স্কোয়াড বেছে নেয়া সম্ভব হবে। এতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের মানসিক চাপ সামলানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবেন।

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে এটিই হবে টাইগারদের শেষ ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ। নির্বাচকরা এই ম্যাচে তরুণদের পরখ করার পাশাপাশি সিনিয়রদের ছন্দও দেখে নেবেন। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের গ্রাফ এখন দারুণ সাফল্যে ভরা। পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত মোট ৯৪টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে জয় এসেছে ৩৬টি সিরিজে এবং ড্র হয়েছে ৪টি। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। নিজেদের কন্ডিশনে খেলা ৫১টি সিরিজের মধ্যে ২৭টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। গত দশকে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কীর্তি রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। মিরপুরের মন্থর এবং টার্নিং উইকেটে বাংলাদেশ বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই যম। ঘরের মাঠের এই দাপট পাকিস্তানের বিপক্ষেও বজায় রাখতে মরিয়া ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শক্তি-সামর্থ্যে দুই দল কাছাকাছি থাকলেও পরিসংখ্যানে পাকিস্তান কিছুটা এগিয়ে। দুই দেশের ৬টি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের ৫টিতেই জিতেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ জিতেছে ১টিতে। তবে পাকিস্তান দল বর্তমানে গভীর ব্যাটিং সংকটে ভুগছে। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সালমান আলী আগার দল সুপার এইট থেকেই বিদায় নিয়েছে। তাদের মিডল অর্ডার এখন সাহিবজাদা ফারহানের ওপর অতি-নির্ভরশীল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ ও তরুণদের দারুণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণ এবং পেসারদের কাটার মিরপুরের উইকেটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যেকোনো সময়। প্রতিপক্ষের এই দুর্বলতাকেই মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ। সঠিক নিশানায় বল করতে পারলে জয় নিশ্চিত। আসন্ন সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। যদিও অতীত পরিসংখ্যান পাকিস্তানের পক্ষে, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে অনেক বেশি পরিণত।

বিসিএল-এর মাধ্যমে ক্রিকেটাররা খেলার মধ্যেই আছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ১১ই মার্চ প্রথম ওয়ানডের আগে ৭ই মার্চের ম্যাচটিই হবে নির্বাচকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র। ইনজুরি মুক্ত থেকে সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারলে সিরিজ জয় সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের অগণিত ক্রিকেট ভক্ত এখন টাইগারদের সিরিজ জয়ের উৎসব দেখার অপেক্ষায়। সঠিক পরিকল্পনা আর মাঠের সফল প্রয়োগই হবে এই মিশনের মূল চাবিকাঠি। বোর্ডও খেলোয়াড়দের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন