মাঝমাঠ জমাট রাখার পণ মনিকার

মাঝমাঠ জমাট রাখার পণ মনিকার

ফন্ট সাইজ:

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে আগামীকাল চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতায় চীন রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে প্রথমবার পা রেখেছে বাংলাদেশ। তার আগে সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের মতো অনুশীলন করে লাল-সবুজের মেয়েরা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি অবশ্য কোনো কমতি রাখছেন না পিটার জেমস বাটলার। সকাল ৯টায় দল নিয়ে জুবিলি স্টেডিয়ামে পৌঁছে নেমে পড়েন অনুশীলনে। দেড় ঘণ্টার প্রস্তুতি সেরে মনিকা চাকমা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এলেন দলের প্রতিনিধি হয়ে। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের সঙ্গে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেহেতু ওদের সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাবো। আর মিডফিল্ডের কথা বলতে গেলে- আমরা যখন খেলবো, তখন সবকিছু মেইনটেইন করে কার কী দায়িত্ব, সেটা পালন করে খেলার চেষ্টা করবো।’ কোচের পরিকল্পনার বাইরেও নিজেরা জানেন তার কি করতে হবে।

মনিকা বলেন, ‘ম্যাচে সবসময় আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ থাকে। যেমন মারিয়া উপরে চলে গেলে আমার মিডফিল্ড হোল্ড করে রাখতে হয়। এই বিষয়গুলো আমরা নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন করে খেলছি। যেহেতু ওরা শক্তিশালী টিম, তাই আমরা সব দিক দিয়ে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। শুধু মিডফিল্ড নয়, আমাদের স্ট্রাইকার, ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার সব বিভাগকেই মেইনটেইন করতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত।’ মনিকাদের প্রস্তুতি মূলত বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার। নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা আরেক দল উত্তর কোরিয়া প্রতিযোগিতার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তানও ঢের এগিয়ে।

এ বিষয়ে এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘যেহেতু ওরা অনেক ভালো টিম এবং ওদের সঙ্গে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা নেই, তাই মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে আমাদের খেলতে হবে। আমরা অনেকদিন ধরে এখানে আছি। আমরা এই আবহাওয়ার সঙ্গে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আমরা এখানে ভালো প্র্যাকটিস করছি। দিন দিন আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে টিম ভালো আছে। যেহেতু ওরা (চীন ও উত্তর কোরিয়া) এশিয়ার মধ্যে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাই আমাদের প্রতিদিন মিটিং হয় এবং ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে এবং মাঠে কীভাবে খেলতে হবে- এগুলো আমাদের মিটিংয়ে বলা হচ্ছে এবং আমরা মাঠেও সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়েই সারাক্ষণ ভাবনায় ডুবে থাকছেন না বলেও জানালেন মনিকা। লক্ষ্য যেহেতু নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর, সেদিকে মনোযোগ তাই বেশি থাকছে বলে জানালেন এই তারকা মিডফিল্ডার। ডিফেন্ডিং এবং অ্যাটাকিং দুই দিক নিয়েই কাজ করছেন জানিয়ে মনিকা বলেন, ‘বল পেলে অবশ্যই আমরা আক্রমণ করবো, আর বল হারালে দ্রুত পজিশনে ফিরে আসার চেষ্টা করবো। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছি। কারণ আমাদের এখানে পারফর্ম করতে হবে। দেশের জন্য, নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য আমরা এখানে খেলতে এসেছি। তাই আমরা আমাদের দেশের কথাই ভাবছি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন