মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান অনিয়ম বন্ধ ও সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় মেঘনা উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচি পালিত হয়। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান, জরুরি সেবার নিশ্চয়তা এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ধান ভাঙার মেশিনের বেল্টে পড়ে মাতাবের কান্দি গ্রামের জসিম শিকদারের ছেলে রুবেল শিকদারের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। এমনকি হাসপাতালে সরকারি দু’টি এম্বুলেন্স থাকলেও তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, সময়মতো রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলে হয়তো রুবেলকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠায় ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, এক্স-রে ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা উপজেলা হাসপাতালেই সম্পন্ন করতে হবে; অযথা প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার করা যাবে না, সব মুমূর্ষু রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সরকারি এম্বুলেন্সে অন্যত্র পাঠাতে হবে, হাসপাতালের অবকাঠামো ও কক্ষের মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক একজন গাইনি চিকিৎসকের উপস্থিতি রাখতে হবে, অসহায় রোগীদের ওষুধ সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া এবং রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করতে হবে, জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকতে হবে, রোগীদের নিরাপত্তায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, স্বাস্থ্যসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মোখলেছুর রহমান, শিফাত প্রধান, ছাত্রদল নেতা মাহবুব হাসান, রমজান শিকদার, শাওন, পারভেজ, রাকিব, দিদার, ইয়াসমিন আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমানের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
