জার্সির দোকানে ঈদের হাওয়া

ফু ট ব ল বি শ্ব কা প

জার্সির দোকানে ঈদের হাওয়া

ফন্ট সাইজ:

একদিন পরই পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। বিশ্বকাপ এলে দেশে বেড়ে যায় জার্সির কদর। আগে থেকেই প্রিয় দলের জার্সি কিনে রাখেন সব বয়সী মানুষ। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সির দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। কেনাবেচা বেড়েছে কয়েকগুণ। জার্সি কেনার হিড়িক পড়েছে অনলাইন, লোকাল মার্কেট থেকে শুরু করে ব্রান্ডের দোকানগুলোতে। নিজের পছন্দের দলের জার্সি কিনতে মরিয়া সব বয়সের মানুষ। তবে শিশু ও যুবক-যুবতীদের মাঝে এ উদ্দীপনা বেশি লক্ষ্য করা যায়। যদিও পিছিয়ে নেই মধ্য বয়সীরাও। সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে জার্সি কিনতে দেখা যায় তাদের। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জার্সি বিক্রেতারা। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জার্সির দোকানগুলোতে যেন ঈদের আমেজ বয়ে যাচ্ছে।

সরজমিন রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাথ ও টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন জার্সির দোকানে দেখা যায়, ছোট থেকে বড়, সব বয়সী মানুষই মেতে উঠছেন বিশ্বকাপের আনন্দে। সারা বছর ফুটপাথে শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট বিক্রি করলেও এই সময়ে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ও আকাশিসহ বাহারি রঙের জার্সি সাজিয়ে রেখেছেন হকাররা। সেগুলো কেনার উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসছেন। সবার লক্ষ্য একটাই-বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রিয় দলের জার্সি সংগ্রহ করা। ক্রেতাদের উপস্থিতিতে দোকানিদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সকলে প্রিয় দলের জার্সি কিনছেন। পাশাপাশি জার্সিতে নিজের নাম লিখে নিচ্ছেন। অনেকে আবার প্রিয় খেলোয়াড়ের নামও লিখে নিচ্ছেন। এ যেন ভিন্ন এক উদ্দীপনা। কেউ কিনছেন নিজের জন্য, কেউবা সন্তানের। কেউ বন্ধুর, আবার কেউ কিনছেন প্রিয় মানুষের জন্য। অনেকে দল নিয়ে আসছেন প্রিয় দলের জার্সি কিনতে। একাধিক জার্সি কিনলে ছাড়ও দিচ্ছেন অনেক দোকানি।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত ২০ দিন ধরে জার্সির বাজার বেশ জমজমাট। ঈদের কারণে কয়েকদিন বেচাকেনা বন্ধ থাকলেও ছুটি শেষে আবারো জমে উঠেছে বাজার। বিক্রি হওয়া ৯০ শতাংশ জার্সিই ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য মেসেজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মানবজমিন কথা বলে পাইকারি, অনলাইন ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে। গুলিস্তানে অবস্থিত অ্যান্ড স্পোর্টস-এর স্বত্বাধিকারী রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দোকানে দৈনিক সাধারণত ২০-৩০ হাজার টাকার জার্সি বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্বকাপ উপলক্ষে এই মুহূর্তে দৈনিক ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। স্টক আসা মাত্রই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের জন্য ইমপোর্টের পাশাপাশি দেশীয় জার্সির চাহিদা প্রচুর। কেউ খুচরা নিতে আসলেও আমরা সীমিত লাভে দিচ্ছি।

গুলিস্তানের ফুটপাথে বিক্রেতা সাগর হোসেন বলেন, সারা বছর ফুটপাথে শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট বিক্রি করি। বিশ্বকাপের জন্য জার্সি বিক্রি করছি। সবচেয়ে বেশি জার্সি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসে; তাই এই সময়ে জার্সি বিক্রিতে মনোযোগ দেই। সাধারণ মানের জার্সি ১৫০ টাকা। আর প্লেয়ার ভার্সন ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছি। মুসাইব স্পোর্টসের বিক্রেতা মাসুদ বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে আমাদের জার্সি বিক্রি অধিক বেড়ে গেছে। এই মৌসুমে সাধারণত বেশি বিক্রি হয়। অন্যান্য সময়ে ক্লাবের জার্সি বিক্রি হয়। কিন্তু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের জার্সি বেশি বিক্রি হচ্ছে। সবাই তাদের পছন্দের দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের কাছে থাই এবং বাংলা ফেব্রিকসের জার্সি রয়েছে। প্লেয়ার এডিশন, হোম কিট, টেরস, এওয়ে ও গোলকিপার জার্সির দাম মানভেদে ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। ব্রাজিল- আর্জেন্টিনার পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের জার্সি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

রেডিয়ান্ট স্পোর্টসের বিক্রেতা আরমান হোসেন বলেন, আমরা প্লেয়ার, হোম ও এওয়ে এডিশনের জার্সি বিক্রি করে থাকি। থাই, চায়না ও লোকাল ফেব্রিকসের মানভেদে জার্সিগুলোর দাম ৫০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। বিশ্বকাপ ঘিরে দৈনিক ৫০০টি জার্সি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন পেইজে প্রচুর রিকুয়েস্ট আসছে। কিন্তু আমরা সবাইকে দিতে পারছি না। এতগুলো মেসেজের উত্তর দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আয়াশ স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী হৃদয় হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ ঘিরে জার্সি বাজারে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বেশি দামে বিক্রি করছে পাইকারি বিক্রেতারা। যেগুলো আমরা দু’মাস আগেও ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করতাম সেগুলো এখন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় জার্সি বিক্রি করতে হচ্ছে। চাহিদা বেশি এবং প্রোডাকশন কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

জার্সি কিনতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, আমি আর্জেন্টিনার দলকে পছন্দ করি। তাই আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে চলে এসেছি। তবে জার্সির দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি চাচ্ছে। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের মধ্যে আলাদা একটা প্রতিযোগিতা কাজ করে। কে কোন দলের সমর্থক, সেটা দেখানোর জন্য সবাই জার্সি কিনছে। আমরাও কয়েকজন মিলে একই দলের জার্সি নিয়েছি, যাতে খেলা দেখার সময় আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি হয়।

কদর বেড়েছে জার্সির পেছনে নাম লেখারও: এদিকে জার্সি কেনার পর তাতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখানোর প্রবণতাও বেড়েছে। জার্সিতে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম ও নিজের নাম লিখাতে স্ক্রিন প্রিন্টের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রিন্টের কাজ করা ব্যক্তিরা নাম লিখাতে মানভেদে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। স্টিকার প্রিন্টের কাজ করা মো. রুবেল বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ফ্রন্ট ও ডিজাইনে নাম-নম্বর তৈরি করে দিচ্ছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে এখন কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি কাজ হচ্ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও পর্তুগালের জার্সিতে। বিশেষ করে মেসির ১০ নম্বর ও রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে অনেকেই নিজেদের পছন্দের নম্বরও বেছে নিচ্ছেন। সাধারণ জার্সিতে নাম লেখাতে ৫০ টাকা, সাদা স্টিকার দিয়ে ১০০ টাকা এবং অফিশিয়াল জার্সিতে নাম লেখাতে ১৫০ টাকা নিচ্ছি।

টুইন টাওয়ারের চতুর্থ তলায় জার্সিতে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম লেখাচ্ছিলেন আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে সকলে পছন্দের দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ায় এটাই উৎসবমুখর পরিবেশ। ছোট থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা ফুটবল খেলা নিয়ে বেশ উৎসাহী থাকে। ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপ এলে নতুন জার্সি কিনে বাবা- চাচারা মিলে একসঙ্গে খেলা দেখি। এই আমেজ সবসময় আসে না।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন